জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন রাঙামাটি জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বিপিন জ্যোতি চাকমা। ‘ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের’ কথা উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক (Facebook) অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে বিপিন জ্যোতি চাকমা আনুষ্ঠানিকভাবে পার্টি (Party) ছাড়ার ঘোষণা দেন। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পার্বত্য জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিপিন জ্যোতি চাকমা লিখেছেন, "জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে ৩০ নভেম্বর তারিখ থেকে দলীয় সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি শিগগির আমার স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্র (Resignation Letter) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিকট প্রেরণ করব।"
এদিকে, পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছি ব্যক্তিগত কারণে। কারও জন্য কোনো কিছু থেমে থাকে না।"
এক মাসে দুই নেতার পদত্যাগ: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের গুঞ্জন
বিপিন জ্যোতি চাকমার এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো, যখন এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রাঙামাটি জেলা এনসিপি থেকে এটি দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার পদত্যাগ। এর আগে গত ১৪ নভেম্বর রাঙামাটি জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যুগ্ম সমন্বয়ক উজ্জ্বল চাকমাও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন।
উজ্জ্বল চাকমা তাঁর পদত্যাগপত্রে (Resignation Letter) লিখেছিলেন, যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে গত আট মাস তিনি এনসিপি (NCP)-তে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাংগঠনিক ভিত্তি প্রচারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত পারিবারিক সমস্যার কারণে দলে তাঁর পক্ষে নিয়মিত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার রাজনীতিতে বিপিন জ্যোতি চাকমা একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মতো শীর্ষ নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও উভয়েই ব্যক্তিগত কারণ ও মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে স্থানীয় মহলে গুঞ্জন চলছে যে এক মাসের মধ্যে দুই নেতার পদত্যাগের পেছনে দলের অভ্যন্তরে গুরুতর মান-অভিমান (Internal Dispute) অথবা দ্বন্দ্ব চলছে। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা অন্য কোনো নেতা এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।