হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (Avsec) যৌথ অভিযানে বড়সড় সাফল্যের খবর মিলেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে পাচার করার সময় ১০২টি দামী স্মার্টফোনসহ চার নারীকে আটক করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকৃত ফোনের মধ্যে রয়েছে অ্যাপলের সদ্য বাজারে আসা ‘iPhone 17 Pro Max’-এর মতো হাই-এন্ড ডিভাইস। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
গোয়েন্দা তথ্যে গ্রিন চ্যানেলে রুদ্ধশ্বাস অভিযান
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৮ (BG-148) ফ্লাইটটি। আগে থেকেই বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থার (Intelligence Wing) কাছে তথ্য ছিল যে, এই ফ্লাইটে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ইলেকট্রনিকস পণ্য বা ‘Gadget’ ঢাকায় প্রবেশ করছে।
ফ্লাইটটি ল্যান্ড করার পরপরই বিমানবন্দর কাস্টমস এবং এভসেকের সদস্যরা যাত্রীদের ওপর ‘Special Surveillance’ বা বিশেষ নজরদারি শুরু করেন। যাত্রীরা যখন গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করছিলেন, তখন চার নারী যাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের চ্যালেঞ্জ করা হয়। এরপর ব্যাপক তল্লাশি চালালে তাদের শরীরের সঙ্গে টেপ দিয়ে প্যাঁচানো ও বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় মোট ১০২টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও কৌশলী পাচার
উদ্ধারকৃত ফোনের তালিকা দেখে চোখ কপালে ওঠার উপক্রম। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ ৩ASDW৫টি ‘iPhone 17 Pro Max’, ৫৫টি ‘iPhone 15’ এবং ১২টি গুগল পিক্সেল (Google Pixel) ফোন। আটককৃত চার নারী—সামিয়া সুলতানা, শামিমা আক্তার, জয়নব বেগম এবং নুসরাত—প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব ফোনের বৈধ কোনো কাগজপত্র বা ‘Import Document’ দেখাতে ব্যর্থ হন।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দকৃত এই ১০২টি ফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব ফোন ডিএম (Detention Memo) মূলে জব্দ করা হয়েছে এবং আটক নারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
‘চিটাগং রুট’: পাচারকারীদের নতুন ট্রানজিট ট্র্যাপ
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরাসরি দুবাই বা শারজাহ থেকে আসা ফ্লাইটগুলোতে কড়াকড়ি বা ‘Scanning’ জোরদার থাকায় চোরাকারবারিরা এখন কৌশল বদলেছে। তারা ‘International Flight’-এর অভ্যন্তরীণ রুট বা ‘Domestic Leg’-কে ব্যবহার করছে।
কৌশলটি হলো—দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটটি যখন চট্টগ্রামে বিরতি দেয়, তখন সেখান থেকে সিন্ডিকেটের সদস্যরা অভ্যন্তরীণ যাত্রী হিসেবে বিমানে ওঠে। আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা (যারা মূল পাচারকারী) বিমানের ভেতরেই কৌশলে তাদের কাছে স্বর্ণ বা দামী মোবাইল হস্তান্তর করে দেয়। ঢাকায় নামার পর অভ্যন্তরীণ যাত্রী হিসেবে কাস্টমসের কড়াকড়ি কম থাকার সুযোগ নিয়ে তারা পণ্য বের করে আনার চেষ্টা করে। তবে এবার গোয়েন্দাদের আগাম তথ্যের কারণে সেই ‘Tactical Shift’ বা কৌশল ভেস্তে গেছে।