রাজধানীর উপকণ্ঠ মাতুয়াইলে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এক দুর্ধর্ষ ‘কিশোর গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক বিশেষ অভিযানে (Special Operation) গ্যাংটির ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর এই ত্বরিত পদক্ষেপ এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর ঢাকা জেলার মাতুয়াইল এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। সাভার সেনানিবাসের অধীন নবম পদাতিক ডিভিশনের ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের ১৫ ইবি (মেক)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এই অপারেশন পরিচালনা করে।
পিনপতন নীরবতায় ‘সার্জিক্যাল’ স্টাইলে অভিযান
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মাতুয়াইলের একটি বসতবাড়িতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা অবস্থান করছে—এমন ‘ইন্টেলিজেন্স’ বা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে অভিযান শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টায়। অভিযানের সময় বাড়িটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে সেনা সদস্যরা, ফলে অপরাধীরা পালানোর কোনো সুযোগ পায়নি। ঘটনাস্থল থেকেই ১১ জন গ্যাং সদস্যকে ‘ডিটেইন’ বা আটক করা হয়।
আস্তানা থেকে মিলল অস্ত্র ও মাদকের ভাণ্ডার
আটককৃতদের তল্লাশি করে তাদের হেফাজত থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার বা ‘Recover’ করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে:
১১টি ধারালো দেশীয় অস্ত্র, যা ছিনতাই ও মারামারিতে ব্যবহৃত হতো।
৫০০ গ্রাম গাঁজা (Narcotics), যা মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে।
নগদ প্রায় ১০ হাজার টাকা, যা মাদক বিক্রি ও চাঁদাবাজির অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ত্রাসের রাজত্ব এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী জানায়, এই কিশোর গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে মাতুয়াইল ও আশপাশের এলাকায় এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিল। চাঁদাবাজি (Extortion), ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার বা ‘Dominance’ বজায় রাখতে তারা নিয়মিত পেশিশক্তির প্রদর্শন করত। তাদের ভ ভয়ে সাধারণ মানুষ তটস্থ থাকত। সেনাবাহিনীর এই অভিযানের ফলে ওই এলাকার ‘ল এন্ড অর্ডার’ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশের হাতে ‘হ্যান্ডওভার’ ও আইনি পদক্ষেপ
অভিযান শেষে আটককৃত ১১ জন এবং জব্দকৃত যাবতীয় মালামাল পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডেমরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর বা ‘Handover’ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধ দমনে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর এমন কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।