লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে বা ‘Title Race’-এ নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল এফসি বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক ফর্মহীনতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানটি কেবল নিজেদের দখলেই রাখল না, বরং ব্যবধান বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে কড়া বার্তাও দিল হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) নিজেদের দুর্গ ক্যাম্প ন্যুয়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে কাতালানরা।
ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত মানসিকতা দেখিয়ে ‘কামব্যাক’ করে বার্সা। রবার্ট লেভানদোভস্কি পেনাল্টি মিস করলেও রাফিনিয়া, দানি ওলমো এবং ফেরান তরেসের গোলে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। এই জয়ে রিয়ালের চেয়ে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে গেল বার্সেলোনা, যদিও ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা একটি ম্যাচ কম খেলেছে।
বল পজেশন ও আক্রমণের পসরা: ক্যাম্প ন্যুয়ে ফ্লিক-দর্শন
ঘরের মাঠে বার্সেলোনার পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অনবদ্য। বল পজেশন বা ‘Ball Possession’ এবং আক্রমণ—সব বিভাগেই দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যদের কোণঠাসা করে রাখে ফ্লিকের দল। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৫৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে প্রতিপক্ষের পোস্টে ১৮টি শট নেয় বার্সা, যার মধ্যে ৬টিই ছিল লক্ষ্যে বা ‘On Target’। অন্যদিকে, টানা ৬ ম্যাচ জিতে আসা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ এদিন বার্সার হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা উপহার দিতে ব্যর্থ হয়। পুরো ম্যাচে তারা মাত্র ৭টি শট নিতে সক্ষম হয়।
তবে খেলার ধারার বিপরীতে ১৯ মিনিটেই লিড নিয়ে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় অ্যাতলেটিকো। নিজেদের অর্ধ থেকে নাহুয়েল মলিনার বাড়ানো পাসে বার্সার ডিফেন্সের ‘Offside Trap’ ভেঙে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন অ্যালেক্স বায়েনা। প্রথমে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তুললেও পরবর্তীতে ‘VAR’ প্রযুক্তির সহায়তায় গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
লেভানদোভস্কির ব্যর্থতা, রাফিনিয়া-ওলমোর বাজিমাত
গোল হজম করার পর বার্সেলোনার প্রতিক্রিয়া ছিল দেখার মতো। মাত্র ৭ মিনিটের ব্যবধানেই সমতায় ফেরে তারা। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রির জাদুকরী ‘Through Ball’ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান চোট কাটিয়ে ফেরা ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া।
প্রথমার্ধেই লিড নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল বার্সার সামনে। পেনাল্টি বা ‘Spot Kick’ পায় তারা, কিন্তু দলের প্রধান স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদোভস্কি বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে হতাশ হতে হয় গ্যালারির দর্শকদের। তবে এই ব্যর্থতা দলের মনোবলে চিড় ধরাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫ মিনিটে দানি ওলমোর দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় (Take the Lead) বার্সেলোনা। বক্সের জটলার ভেতর লেভানদোভস্কির পাস থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
রিয়ালের সামনে কঠিন সমীকরণ
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ে (Injurty Time) অ্যাতলেটিকোর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ফেরান তরেস। ডান প্রান্ত থেকে আলেহান্দ্রো বালদের বাড়ানো পাসে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে সহজেই গোল করেন তিনি। এই হারের ফলে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানেই রইল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ।
অন্যদিকে, ১৫ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করল বার্সেলোনা। ১৪ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সামনে এখন চাপ পাহাড়সম। আজ (৩ ডিসেম্বর) অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শাবি আলনসোর রিয়াল মাদ্রিদ যদি জিততে পারে, তবেই ব্যবধান কমিয়ে ১ পয়েন্টে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় বার্সেলোনার এই দাপুটে জয় শিরোপা প্রত্যাশীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।