দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সীমানার কাঁটাতার পেরিয়ে তাঁর এই মানবিক উদ্বেগ এবং চিকিৎসা সহায়তার প্রস্তাবকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) মোদির বার্তার জবাবে পাল্টা ধন্যবাদ জানিয়ে এক অনন্য ‘ডিপ্লোমেটিক জেসচার’ বা কূটনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শন করল দলটি।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিএনপির অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মোদির মানবিক বার্তা ও সহায়তার আশ্বাস
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলে বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা ও শুভকামনা রইল।”
তবে মোদি কেবল উদ্বেগ প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ভারত সরকার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। তিনি লেখেন, “আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স’ বা সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।” প্রতিবেশী দেশের সরকার প্রধানের কাছ থেকে এমন বার্তা নিঃসন্দেহে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক আবহ তৈরি করে।
বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
মোদির এই বার্তার পর মঙ্গলবার বিএনপির পক্ষ থেকে ত্বরিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। দলের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইট বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে ‘থটফুল মেসেজ’ বা সুচিন্তিত বার্তা দিয়েছেন, তার জন্য দল আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
বিএনপি আরও জানায়, এই কঠিন সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা এবং সমর্থন প্রদানের প্রস্তুতিকে তারা অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের এমন প্রকাশ্য ও সৌজন্যমূলক যোগাযোগ আগামী দিনের রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিতে পারে।
হাসপাতালে সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। এরপর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের ভাষ্যমতে, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে বেশ ‘ক্রিটিক্যাল’ বা সংকটাপন্ন। সিসিইউ-তে রেখে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের জন্য মানসিক সমর্থনের মতো কাজ করেছে।