দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের (Landslide) কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় (Humanitarian Crisis) নতুন করে আতঙ্কের মুখে। চারটি দেশে চলমান এই দুর্যোগে ইতোমধ্যেই ১,৫০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং Data অনুযায়ী অন্তত ৮ লাখেরও বেশি মানুষ পুরোপুরি গৃহহীন (Homeless) হয়ে পড়েছেন। এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই আবহাওয়া Department থেকে ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বহুগুণ বাড়িয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া: সুমাত্রায় নতুন করে বৃষ্টির আশঙ্কা
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের Epicenterগুলোর মধ্যে অন্যতম ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সুমাত্রা দ্বীপে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত আবারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত রাত থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে (Shelters) থাকা মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়ায় এখন পর্যন্ত ৮৩৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, তবে বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ (Missing)।
ভারী বৃষ্টির কারণে বহু এলাকা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন (Isolated) হয়ে রয়েছে। বিধ্বস্ত Infrastructure-এর কারণে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ (Electricity Supply) স্বাভাবিক করা এখনও সম্ভব হয়নি, যা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে (Relief Operations) বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
শ্রীলঙ্কা: ভূমিধসের উচ্চ সতর্কতা
এদিকে শ্রীলঙ্কাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে দেশটিতে নতুন Monsoon শুরু হতে পারে বলে পূর্বাভাস মিলেছে। এতে করে আবার ভূমিধসের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে ক্যান্ডি (Kandy) অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে তাঁদের বাড়িঘরে না ফেরার জন্য স্পষ্ট Alert জারি করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ৪৭৯ জন মানুষ মারা গেছেন এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আঞ্চলিক প্রভাব: থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া
কেবল ইন্দোনেশিয়া বা শ্রীলঙ্কা নয়, আঞ্চলিকভাবে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াতেও এই বন্যার প্রভাব পড়েছে। দুই দেশে বন্যায় ৩০-এরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। অনেক বন্যা কবলিত এলাকায় খাদ্য সংকট (Food Shortage) দেখা দিয়েছে, যা Disaster Management-এর ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পুরো অঞ্চল জুড়েই সেনাবাহিনী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।
জলবায়ু পরিবর্তন: বিশেষজ্ঞ মতামত
বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতকে Climate Change-এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, এশিয়ার কৃষিতে বর্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও জলবায়ুর পরিবর্তন এখন বৃষ্টিকে আরও অনিয়মিত ও বিপজ্জনক (Dangerous) করে তুলছে। এটি শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী Ecological সংকটের প্রতিফলন। নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি হওয়ায় উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই চরম উদ্বেগে রয়েছে, কারণ এটি তাদের চলমান মানবিক কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলবে।