• দেশজুড়ে
  • নাফ নদে ফের উদ্বেগ: আরাকান আর্মির হাতে ৬ জেলে আটক, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

নাফ নদে ফের উদ্বেগ: আরাকান আর্মির হাতে ৬ জেলে আটক, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নাফ নদে ফের উদ্বেগ: আরাকান আর্মির হাতে ৬ জেলে আটক, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ‘মেরিটাইম ল’ অনুযায়ী বিচার করার হুমকি মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটির; সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আবারও অস্থিরতার মেঘ। টেকনাফের নাফ নদ থেকে দুই বাংলাদেশি ও চার রোহিঙ্গাসহ মোট ছয় জেলেকে আটক করেছে মিয়ানমারের শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (Arakan Army)। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ভোরে টেকনাফের ঝিমংখালি সীমান্তের নাফ নদের জলসীমা থেকে দুটি নৌকাসহ তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরাকান আর্মির দাবি, ওই জেলেরা অবৈধভাবে তাদের নিয়ন্ত্রিত জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। আটককৃতদের বিরুদ্ধে তারা নিজস্ব আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে, যা দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতির ‘Geopolitical Sensitivity’ বা ভূ-রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভোররাতের অভিযান ও আটকের নেপথ্য

স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, বুধবার ভোরে জেলেরা যখন নাফ নদের ঝিমংখালি পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরছিলেন, তখনই আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এসে তাদের ধাওয়া করে। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুটি নৌকাসহ ছয়জনকে মিয়ানমারের ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁরা হলেন—হোয়াইক্যং উত্তরপাড়ার আবুল হাসেমের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম এবং রইক্ষ্যং গ্রামের অলি হোসেনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন। নৌকায় থাকা বাকি চারজন রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে।

আরাকান আর্মির কঠোর অবস্থান ও ‘মেরিটাইম ল’

রাখাইন রাজ্যের বড় অংশ এখন মিয়ানমার জান্তা সরকারের হাতছাড়া হয়ে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। তারা সেখানে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো বা ‘De Facto Authority’ গড়ে তুলেছে। মিয়ানমার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আরাকান আপডেট নিউজ-এর বরাতে জানা গেছে, আরাকান কোস্টাল সিকিউরিটি ফোর্স (Arakan Coastal Security Force) এই অভিযান পরিচালনা করেছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটির দাবি, ওই জেলেরা অননুমোদিতভাবে আরাকান আঞ্চলিক জলসীমায় (Territorial Waters) প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ ধরছিল। সংবাদ মাধ্যমটি আরও জানায়, বিদ্যমান সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আইন বা ‘Maritime and Regional Security Law’ অনুযায়ী আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। আন্তর্জাতিক সীমানা আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও ধোঁয়াশা

সীমান্তে এমন ঘটনায় সাধারণত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়। তবে এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “জেলে আটক হওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনকে কোনো ‘Official Complaint’ বা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এরপরও আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”

সাম্প্রতিক সময়ে নাফ নদে বাংলাদেশি জেলেদের ওপর আরাকান আর্মির এমন আগ্রাসী আচরণ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তার (Border Security) ওপর পড়ছে, যা কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে।

Tags: arakan army teknaf border naf river bangladeshi fishermen detained myanmar conflict rohingya crisis maritime security border tension