দেশের খাদ্যনিরাপত্তা বা Food Security সুসংহত রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গমের আরও একটি বড় চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ৬০ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন গম বহনকারী একটি বিদেশি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের Outer Anchorage বা বহির্নোঙরে অবস্থান নিয়েছে। সরকারি পর্যায়ে আমদানি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসা এই বিপুল পরিমাণ গম দেশের খাদ্যশস্যের মজুদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জি-টু-জি চুক্তির আওতায় শক্তিশালী সরবরাহ চেইন
বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বা MoU-এর ভিত্তিতে এই গম আমদানি করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এটি মূলত সরকার টু সরকার (G2G) ভিত্তিতে সম্পাদিত একটি নগদ ক্রয় চুক্তি (চুক্তি নম্বর: জি টু জি-০১)। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি স্বচ্ছতা ও দ্রুততার জন্য স্বীকৃত।
এই স্ট্র্যাটেজিক চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বমোট ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার পৌঁছানো চালানটি এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার চতুর্থ ধাপ। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি Supply Chain বা সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ফুটে উঠেছে।
আমদানির পরিসংখ্যান ও ধারাবাহিকতা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে গমের চালান আসার প্রক্রিয়াটি গত অক্টোবর মাস থেকেই বেশ গতিশীল রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত চারটি পৃথক চালানে মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৬ মেট্রিক টন গম দেশে পৌঁছেছে। পূর্ববর্তী চালানগুলোর পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
প্রথম চালান: গত ২৫ অক্টোবর ৫৬ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন।
দ্বিতীয় চালান: গত ৩ নভেম্বর ৬০ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন।
তৃতীয় চালান: গত ১৫ নভেম্বর ৬০ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন।
চতুর্থ চালান (বর্তমান): ৫ ডিসেম্বর ৬০ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন।
এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে খুব শীঘ্রই চুক্তির অবশিষ্ট গমও দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
মান নিয়ন্ত্রণ ও খালাস প্রক্রিয়া
জাহাজটি বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর থেকেই এর Quality Control বা মান নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজে রক্ষিত গমের নমুনা বা Sample সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ল্যাবরেটরিতে এই গমের পুষ্টিমান ও গুণগত মান যাচাই-বাছাই করা হবে।
নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট সন্তোষজনক হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাহাজ থেকে গম খালাস বা Unloading কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর তা দেশের বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদামে (Silos) সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য পাঠানো হবে।