মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) সুদের হার কমানোর জোরালো সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও চকচক করে উঠল স্বর্ণ। বিনিয়োগকারীদের ‘সেফ হ্যাভেন’ (Safe Haven) হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুটির দাম শুক্রবার বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের (Spot Gold) দাম আউন্সপ্রতি ৪,২২৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক বড় বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারে কেন এই অস্থিরতা?
শুক্রবার জিএমটি ১০:১৭ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ‘স্পট গোল্ড’-এর দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,২২৫.১১ ডলারে। যদিও সাপ্তাহিক হিসাবে এটি এখনো সামান্য (০.১ শতাংশ) নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে, তবে দিনের লেনদেনে এই উল্লম্ফন বিনিয়োগকারীদের নজরে পড়েছে। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফিউচার্স গোল্ড’ (Futures Gold)-এর দাম ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ৪,২৫৫.৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বাড়ার প্রধান অনুঘটক হলো ডলারের দুর্বলতা। বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলার সূচক বা ‘ডলার ইনডেক্স’ (Dollar Index) বর্তমানে পাঁচ সপ্তাহের সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী বা ‘কস্ট ইফেক্টিভ’ হয়, যা বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ‘ইনফ্লেশন ডাটা’য়
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ নীতি সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সভার আগে বিনিয়োগকারীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সর্বশেষ ‘ইনফ্লেশন ডাটা’ বা মুদ্রাস্ফীতি-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য। এফএক্সটিএম (FXTM)-এর সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট লুকমান ওতুনুগা বলেন, ‘‘ফেড আগামী সপ্তাহে সুদের হার কমাতে পারে—বাজারে এমন একটি শক্তিশালী ‘মার্কেট এক্সপেকটেশন’ (Market Expectation) তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ডলারের দুর্বলতা যুক্ত হয়ে স্বর্ণের বাজারকে উপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’’
মূলত, সুদের হার কমলে সুদবিহীন সম্পদ বা ‘নন-ইয়েল্ডিং অ্যাসেট’ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বেড়ে যায়।
দেশের বাজারে আজকের দর এবং হালচাল
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার মাঝেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের বর্তমান পরিস্থিতি কী? বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৫ টাকায়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার প্রেক্ষিতে ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়েছিল বাজুস।
নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী আজ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ১১ হাজার ৯৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৪৯৬ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৯ টাকা।
বিশ্ববাজারে দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী—সবাই এখন তাকিয়ে আছেন আগামী সপ্তাহের ‘গ্লোবাল মার্কেট মুভমেন্ট’-এর দিকে।