২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল বা ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর দামামা বেজে গেছে জন এফ কেনেডি সেন্টারে ড্র-এর মাধ্যমেই। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো ফুটবল পরাশক্তিরা ইতিমধ্যেই উঠে গেছে বিশ্বকাপের ট্রেনে। বিশ্বজুড়ে যখন শুরু হয়েছে ফুটবলীয় উন্মাদনা, তখন সেই ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশের ফুটবলেও। সেই আবেগের পালে নতুন হাওয়া দিতে আগামী জানুয়ারিতেই ঢাকায় আসার কথা রয়েছে কাঙ্ক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। তবে বিশ্বজয়ের এই সোনালি স্মারক দেখার সুযোগ মিলবে কি না, তা নির্ভর করছে একটি বিশেষ শর্তের ওপর।
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, সব ঠিক থাকলে আগামী ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশে পা রাখবে বিশ্বকাপ ট্রফি। তবে এই ‘ট্রফি ট্যুর’ (Trophy Tour) সম্পূর্ণ নির্ভর করছে দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির (Political Situation) ওপর। পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেই কেবল ঢাকার মাটিতে নামবে ট্রফিটি।
টিকিট প্রাপ্তি ও দর্শক সম্পৃক্ততা
২০২৬ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যাও। এই বর্ধিত পরিসর বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (BFF)। বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, ফিফা (FIFA) থেকে এবার বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত ‘টিকিট অ্যালোকেশন’ (Ticket Allocation) বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
গণমাধ্যমকে ফাহাদ করিম বলেন, “ফিফা আমাদের বার্তা পাঠিয়েছে যে তারা ট্রফিটা আনছে। ট্রফিটি বাংলাদেশে এক দিনের জন্য অবস্থান করবে। আমরা ইতিমধ্যেই ফিফাকে জানিয়েছি, এবার যেহেতু খেলার পরিধি বেড়েছে, তাই আমাদের জন্য টিকিটের কোটা বাড়ানো সম্ভব কি না। তারা ফাইনাল প্ল্যান আমাদের দেখাবে এবং সেখানে আমাদের ইনপুট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।” এবার ট্রফি ট্যুরে সাধারণ দর্শকদের সম্পৃক্ততা (Audience Engagement) বাড়ানোর দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
প্রবাসী ফুটবলার ও ‘ট্যালেন্ট হান্ট’
বিশ্বকাপের বছরে দেশের ফুটবলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। আগামী বছর পাঁচজন প্রবাসী ফুটবলারকে লাল-সবুজের জার্সিতে খেলানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত ‘সুলিভান ব্রাদার্স’কে নিয়ে কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। তবে ইংলিশ ক্লাব ফুলহ্যামের বয়সভিত্তিক দলে খেলা ফারহান আলী ওয়াহিদকে নিয়ে এখনই কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেনি ফেডারেশন।
এ প্রসঙ্গে বাফুফে সহ-সভাপতি বলেন, “সুলিভান ব্রাদার্স আমাদের পরিকল্পনায় অবশ্যই আছেন এবং তাদের নিয়ে আমরা অনেক আগে থেকেই কাজ করছি। তবে ফারহানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে না। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”
লাতিন বাংলা কাপ ও বাফুফের কঠোর অবস্থান
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লাতিন বাংলা সুপার কাপের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বাফুফে। টুর্নামেন্টের আয়োজকদের ‘অপেশাদার’ (Unprofessional) আচরণ দেশের ফুটবলের ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ (Brand Image) ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করে ফেডারেশন। ভবিষ্যতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাফুফে আরও কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করবে।
আয়োজকদের লজিস্টিক সাপোর্ট না দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ফাহাদ করিম বলেন, “এটি ছিল খুবই অপেশাদার আয়োজন। ফেডারেশন হিসেবে আমরা ৯০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়। আমি সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছি যাতে দ্রুত তাদের সঙ্গে বসা হয়। দেশের ফুটবলের স্বার্থে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না।”
ফিফার সোনালি ট্রফি আগমন এবং প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালকে ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন জাগরণের স্বপ্ন দেখছে বাফুফে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক ও বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ উতরে এই স্বপ্ন কতটা সফল হয়।