• জাতীয়
  • আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ; বিচার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ধাপের অপেক্ষা

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ; বিচার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ধাপের অপেক্ষা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ; বিচার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ধাপের অপেক্ষা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদের রক্তস্নাত অধ্যায়ের বিচার: কাঠগড়ায় ৬ আসামি, ট্রাইব্যুনাল-১ এ চলছে শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ‘জেআইসি সেল’-এর গুম ও নির্যাতনের শুনানি।

জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে বুকে অদম্য সাহস নিয়ে পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন যিনি, সেই শহীদ আবু সাঈদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এবার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শুরু হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব। এদিন আদালতে জবানবন্দি দিতে উপস্থিত হয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় ইতিহাসের সাক্ষী

মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই ‘High Profile’ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহর জবানবন্দি বা ‘Deposition’ এই মামলার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ২১তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছে ট্রাইব্যুনাল।

আইনি প্রক্রিয়ার ক্রমধারা অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেই আদালতের সামনে হাজির হবেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বা ‘Investigation Officer (IO)’। তদন্তকারী কর্মকর্তার জবানবন্দি এবং জেরা শেষ হওয়ার মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ অধ্যায়ের বা ‘Evidence Phase’-এর সমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

মামলায় অভিযুক্ত মোট ৩০ জন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৬ আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

ট্রাইব্যুনাল-১: ‘আয়নাঘর’ ও জেআইসি সেলের শুনানি

অন্যদিকে, একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চলছে আওয়ামী লীগ শাসনামলের আরেক কালো অধ্যায়ের বিচারিক কার্যক্রম। ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’ বা জেআইসি সেলে (JIC Cell) আটকে রেখে ২৬ জনকে গুম ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে শুনানি চলছে।

এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হয়েছে। এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ বা ‘Prosecution’ তাদের অভিযোগ গঠনের শুনানি বা ‘Charge Hearing’ শেষ করে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে বিরোধীদের দমন করতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই ‘Enforced Disappearance’ বা গুমের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল, যার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুখ্যাত জেআইসি সেল।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের বিচার এবং বিগত দেড় দশকের গুম-খুনের বিচারিক কার্যক্রম—একই দিনে ট্রাইব্যুনালের দুই কক্ষের এই ব্যস্ততা দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এক নতুন দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Tags: bangladesh politics hasnat abdullah international crimes tribunal july uprising sheikh hasina trial human rights enforced disappearance abu sayed murder court update jic cell