কক্সবাজারের টেকনাফে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় (Road Accident) ঝরে গেল দুটি তাজা প্রাণ। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ভরদুপুরে হাইওয়ে সড়কে মাছবোঝাই মিনিট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে (Head-on Collision) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন দুইজন। নিহতদের মধ্যে একজন অটোরিকশার চালক এবং অন্যজন যাত্রী ছিলেন। এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রক্তাক্ত হাইওয়ে: যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হ্নীলা আলী খালী রাস্তার মাথা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। টেকনাফগামী একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশা নিজের গন্তব্যে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারমুখী একটি দ্রুতগামী মাছবোঝাই মিনিট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সিএনজি অটোরিকশাটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে গিয়ে পড়ে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশার ভেতর থেকে চালক ও যাত্রীকে বের করার আগেই ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগালেও ততক্ষণে সব শেষ।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই হতভাগ্যের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন: ১. মো. ফারুক: তিনি দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটির চালক (Driver) ছিলেন। তার বাড়ি হ্নীলা মৌলভী বাজার পূর্ব পাড়ায়, পিতার নাম মো. সেলিম। ২. ইমান হোসেন: তিনি ওই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। টেকনাফ নাজির পাড়ার বাসিন্দা ছৈয়দ নুরের পুত্র তিনি।
পুলিশের তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপ
হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) নুরুল আবছার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাস্হলে পুলিশের বিশেষ টিম (Police Force) পাঠানো হয়েছে। পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ওসি আরও জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” বেপরোয়া গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে হাইওয়ে পুলিশ।