রাশিয়ার সামরিক এভিয়েশনে ফের বড়সড় বিপর্যয়। মেরামতের কাজ শেষে আকাশে ডানা মেলতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল রুশ বিমানবাহিনীর একটি বিশালাকার পরিবহন বিমান। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) মস্কোর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ইভানোভো অঞ্চলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানে থাকা আরোহীদের কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
মেরামতের পরেই ‘টেস্ট ফ্লাইট’ বিপর্যয়
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং রাশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল একটি ‘আন্তোনভ আন-২২’ (Antonov An-22)। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ Heavy Military Transport এয়ারক্রাফট হিসেবে পরিচিত। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি দীর্ঘদিন মেরামতের (Maintenance) কাজ শেষে মঙ্গলবার একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন বা Test Flight-এ ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার ভিডিও বা ছবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিমানটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়।
নিহতদের বিষয়ে ধোঁয়াশা ও আশঙ্কা
দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত সরকারিভাবে হতাহতের নিশ্চিত কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ (TASS)-এর একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানটিতে অন্তত সাতজন Crew Member বা কর্মী ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের যে ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁদের কারও বেঁচে থাকার অলৌকিক সম্ভাবনা দেখছেন না উদ্ধারকর্মীরা। ধারণা করা হচ্ছে, সাতজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন।
তদন্তে নেমেছে বিশেষ দল
দুর্ঘটনার পরপরই ইভানোভো অঞ্চলের দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে রাশিয়ার জরুরি সেবা বিভাগের একাধিক ইউনিট। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ফ্লাইটটি মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর শিডিউল অনুযায়ী আকাশে ওড়ে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
বিমানটিতে কোনো Technical Glitch বা যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা, নাকি এর পেছনে পাইলটের কোনো ভুল ছিল—তা খতিয়ে দেখতে বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত চাপের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা রুশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।