হিমালয়ের কোলঘেঁষা জেলা পঞ্চগড় এখন শীতের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। পৌষের আগাম বার্তাতেই জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। দেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ায় প্রকৃতির রূপ এখন রুক্ষ ও শীতল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, টানা পাঁচ দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এই সীমান্তবর্তী জনপদেই। ১০ ডিগ্রির ঘরেই ঘুরপাক খাচ্ছে থার্মোমিটারের পারদ, যা জানান দিচ্ছে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন শীত।
টানা পাঁচ দিন রেকর্ডের পাতায় তেঁতুলিয়া
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় এই উপজেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা বা Humidity ছিল ৭৭ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) থেকে টানা বুধবার পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন Temperature রেকর্ড হয়েছে এখানেই। গত ৫ দিনের চিত্র ছিল এমন:
শনিবার (৬ ডিসেম্বর): ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রোববার (৭ ডিসেম্বর): ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর): ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর): ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর): ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিন ও রাতের তাপমাত্রার খেল
উত্তরের এই জনপদে দিন ও রাতের আবহাওয়ায় দেখা যাচ্ছে ভিন্নরূপর। দিনের বেলা সূর্য উঁকি দিলে তাপমাত্রা খানিকটা বেড়ে ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা স্থানীয়দের কিছুটা স্বস্তি দেয়। কিন্তু সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসে হিমালয়ের বরফগলা বাতাস বা Cold Wind। সন্ধ্যা নামতেই হাড়কাঁপানো শীতে জুবুথুবু হয়ে পড়ে জনজীবন। গরম কাপড় ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যেন দুষ্কর। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশ ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়।
শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস ও বিশেষজ্ঞদের মত
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় সময় সংবাদকে জানান, গত পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রার তেমন কোনো বড় পরিবর্তন বা Fluctuation নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও নিচে নামার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ডিসেম্বরের শেষ দিকে শীত একেবারে জেঁকে বসবে এবং মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বা Cold Wave বয়ে যেতে পারে।”
শীতের এই তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পর্যটকদের কাছে শীতের তেঁতুলিয়া আকর্ষণীয় হলেও, স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এই আবহাওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।