রাজধানী ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং জনকণ্ঠস্বর ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ জনপদেও। এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে ঝালকাঠিতে তীব্র বিক্ষোভ ও ‘Road Blockade’ (সড়ক অবরোধ) কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলের এই কর্মসূচিতে স্থবির হয়ে পড়ে ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক।
মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও জনদুর্ভোগ
শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় জড়ো হন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলেন পুরো এলাকা। একপর্যায়ে তারা ঝালকাঠি-বরিশাল ‘Regional Highway’-র (আঞ্চলিক মহাসড়ক) ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আকস্মিক এই অবরোধে মুহূর্তের মধ্যেই মহাসড়কের উভয় পাশে ‘Traffic Movement’ (যান চলাচল) সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বরিশাল ও খুলনাগামী রুটের দূরপাল্লার বাসসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়লে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধের ফলে যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচলে শিথিলতা প্রদর্শন করেন।
২৪ ঘণ্টার ‘আল্টিমেটাম’ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বিক্ষোভ চলাকালে সমাবেশে বক্তারা ওসমান হাদির ওপর হামলাকে একটি গভীর এবং ‘Pre-planned Conspiracy’ (পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র) হিসেবে অভিহিত করেন। তারা অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতে এই জঘন্য হামলা চালিয়েছে।
অবরোধকারীরা প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ‘Ultimatum’ (আল্টিমেটাম) দেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে ‘Immediate Arrest’ (তাৎক্ষণিক গ্রেফতার) নিশ্চিত না করা হয়, তবে তারা আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাদের দাবি, কোনোভাবেই এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি মেনে নেওয়া হবে না।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক
অবরোধের খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোরালো আশ্বাস দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে ‘Assurance’ (আশ্বাস) পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় রাস্তা থেকে জ্বলন্ত টায়ার ও ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।