বলিউডের সফলতম তারকাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাহরুখ খান। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি দুবাইতে আয়োজিত একটি বিলাসবহুল বাণিজ্যিক টাওয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর জীবনের সেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন, যা তাকে আজকের 'শাহরুখ খান' হতে সাহায্য করেছে।
অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারানো দুবাইতে শাহরুখ খানের নামে নামকরণ করা একটি বাণিজ্যিক টাওয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিং খান। তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও নির্মাতা ফারাহ খানের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি ফিরে যান অতীতে। তিনি বলেন, “আমার জীবন বদলে দেওয়া মুহূর্তটি এসেছিল খুব অল্প বয়সে, যখন আমি আমার বাবা-মাকে হারাই। আমার মনে হয়েছিল, তারা আকাশের তারা হয়ে গেছেন। তারা আর আমাকে দেখতে পাবেন না।”
শোক থেকে সাফল্যের প্রেরণা অভিনেতা জানান, এই গভীর শোক তাকে হতাশ করেনি। বরং তা তাঁকে আরও বড় মানুষ হওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে। শাহরুখের মনে জেদ চাপে যে, তাকে এত বড় হতে হবে যেন তার বাবা-মা জান্নাত (স্বর্গ) থেকেও তাকে দেখতে পান। এই শোকই তাকে কঠোর পরিশ্রমী করে তোলে এবং তাঁর জীবনে অপ্রত্যাশিত সাফল্য এনে দেয়।
কৃতজ্ঞতা ও অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি নিজের সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়ে শাহরুখ সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ খুবই দয়ালু। আমার জীবনে অনেক অপ্রত্যাশিত সাফল্য এসেছে।” নিজের জীবনে পাওয়া কিছু বড় প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, লন্ডনে তাঁর 'দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে' ছবির জন্য ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, তিনি জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন এবং এখন দুবাইতে তাঁর নামে একটি টাওয়ার হচ্ছে।
আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি সবশেষে বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে পৃথিবীতে এত বড় কিছু আমার জন্য অপেক্ষা করবে, যা আমার বাবা-মা জান্নাত থেকে দেখতে পাবেন। আমার জন্য, এটাই জীবন বদলে দেওয়া মুহূর্ত।”