দায়িত্বের ১৬ মাস পূর্তি ও ওসমান হাদির প্রতি উদ্বেগ
শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন, শনিবার তাঁর এ দায়িত্বের ১৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। তিনি লেখেন, “লেখার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলাম না। কিন্তু গতকালের নৃশংস গুলিবর্ষণের পর থেকে ওসমান হাদি আমার ভাবনায়, আমার দোয়ায়।”
নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা ও প্রত্যাশা
প্রেস সচিব লিখেছেন যে তিনি বাংলাদেশের নানা প্রান্তে ঘোরেন এবং যেখানে যান, সেখানে লাখ লাখ 'হাদি'কে দেখেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “হাসিনা আর আসাদুজ্জামান খান কামাল—বাংলার কসাইরা—আর কতজনকে মারতে পারবে?”
তিনি বলেন, এই দেশের রাজনীতির হাল ধরেছে এক নতুন প্রজন্ম, যারা এক স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে, কিন্তু তাদের মিশন এখনো শেষ হয়নি। তাঁর মতে, এ প্রজন্মের কোটি কোটি 'হাদি' যতক্ষণ তাদের অবস্থান ছাড়তে অস্বীকার করবে, ততক্ষণ ভয় পাওয়ার বা আশা হারানোর কোনো কারণ নেই। তিনি আনাসের (যিনি শহীদ হওয়ার আগে মায়ের কাছে চিঠি লিখেছিলেন) মতো এই তরুণদের প্রতি আস্থা রাখেন, যারা দেশটা ঠিক না করা পর্যন্ত থামবে না বলে পরিবারের কাছে অঙ্গীকার করেছে।
আগামী দশকের বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদ
শফিকুল আলম নিশ্চিত যে আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। তিনি স্বীকার করেন যে, সামনে ধাক্কা থাকবে এবং শক্তিশালী বিদেশি ও দেশীয় শক্তি সাময়িকভাবে 'ইঞ্জিন বিকল' করার চেষ্টা করবে। তবে, এই তরুণ প্রজন্ম ভয় পায় না এবং তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
শহীদদের স্মরণ ও ব্যক্তিগত নির্ভীকতা
জুলাই ও আগস্টে নিহত আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আনাস, আহনাফ, ফাইয়াজ, দীপ্ত, নাইমা ও রিয়া গোপ-এর কথা উল্লেখ করেন প্রেস সচিব। তিনি আরও স্মরণ করেন বিদেশি চাপিয়ে দেওয়া এক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে শহীদ আবরার ফাইয়াজকে। তিনি উল্লেখ করেন, “তবু চারদিকে ছড়িয়ে আছে লাখ লাখ হাদি ও নাবিলা। তারা ভয় পায় না। আমিও না।”