বয়স নিছকই একটি সংখ্যা—চলতি অ্যাশেজ সিরিজে যেন সেই প্রবাদটিকেই নতুন করে প্রমাণ করছেন মিচেল স্টার্ক। ৩৬ ছুঁইছুঁই বয়সেও ২২ গজে তাঁর গতির ঝড় থামছে না। তবে বাস্তবতা হলো, ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে দাঁড়িয়ে আছেন এই অজি ‘Speedster’। ক্রিকেট বিশ্ব যখন তাঁর অবসর নিয়ে জল্পনা-কল্পনায় মগ্ন, ঠিক তখনই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা ‘Retirement Plan’ নিয়ে মুখ খুললেন স্টার্ক। জানিয়ে দিলেন, এখনই বুটজোড়া তুলে রাখছেন না; বরং লাল বলের ক্রিকেটে বিদায় বলার আগে ২০২৭ সাল পর্যন্ত দুটি হাই-ভোল্টেজ সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।
বিদায়ের আগে ‘ফাইনাল ডেস্টিনেশন’
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন ফাস্ট বোলারের জন্য ‘Fitness’ ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু স্টার্ক যেন ওল্ড ওয়াইন। আইসিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর লক্ষ্য ২০২৭ সালে ভারত ও ইংল্যান্ড সফর।
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম কঠিন এই দুই ভেন্যুতে খেলে তবেই টেস্ট জার্সিটা তুলে রাখতে চান তিনি। স্টার্ক বলেন, “২০২৭ সালে ভারত ও ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার ব্যাপারে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। এটাই আমার বর্তমান পরিকল্পনা। যদিও শরীর সায় দেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে—তবে মানসিকভাবে আমি খুব করে চাই ওই দুটি সফরে দলের ‘Spearhead’ হিসেবে থাকতে।”
অ্যাশেজে বিধ্বংসী রূপ ও বিশ্বরেকর্ড
বর্তমানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মর্যাদার অ্যাশেজ সিরিজ খেলছে অস্ট্রেলিয়া। আর সেখানেই বল হাতে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছেন স্টার্ক। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে ১৮টি উইকেট। এই পারফরম্যান্সই বলে দেয়, ‘Workload Management’-এর দোহাই দিয়ে তাঁকে বাতিলের খাতায় ফেলার সময় এখনো আসেনি।
ইতিমধ্যেই টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বাঁহাতি পেসার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। ওয়াসিম আকরামের মতো কিংবদন্তিদের কাতারে নাম লিখিয়ে স্টার্ক প্রমাণ করেছেন, আধুনিক ক্রিকেটে তিনি নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা ‘Match Winner’।
দেড় দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার
২০১১ সালে ব্রিসবেনের গাব্বায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্যাপ মাথায় পরেছিলেন মিচেল স্টার্ক। দেখতে দেখতে পার করে ফেলেছেন ১৪টি বছর। সাদা পোশাকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১০২টি টেস্ট ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, আর ১৯৬ ইনিংসে বল করে শিকার করেছেন ৪২০টি উইকেট। তাঁর এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, গত এক দশক ধরে অজি বোলিং লাইনআপের অন্যতম ভরসার প্রতীক ছিলেন তিনি। তাঁর ইনুইং ও ইয়র্কার সামলানো ব্যাটারদের জন্য আজও এক দুঃস্বপ্ন।
সাদা বলের ভবিষ্যৎ ও বিশ্বকাপ ভাবনা
টেস্ট নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকলেও, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে আগেই বিদায় জানিয়েছেন স্টার্ক। গত সেপ্টেম্বরেই ক্ষুদ্রতম সংস্করণ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তবে ওয়ানডে বা ৫০ ওভারের ক্রিকেট নিয়ে তাঁর স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে। স্টার্কের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা। অর্থাৎ, ২০২৭ সালটিকেই তিনি নিজের ক্যারিয়ারের ‘Finish Line’ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।