• জীবনযাপন
  • অজান্তেই কি আপেলের বীজ চিবিয়ে ফেলছেন? সাবধান! বীজের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সায়ানাইডের মারণবিষ

অজান্তেই কি আপেলের বীজ চিবিয়ে ফেলছেন? সাবধান! বীজের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সায়ানাইডের মারণবিষ

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
অজান্তেই কি আপেলের বীজ চিবিয়ে ফেলছেন? সাবধান! বীজের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সায়ানাইডের মারণবিষ

অজান্তেই কি আপেলের বীজ চিবিয়ে ফেলছেন? পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ‘ সায়ানাইড’ শিশুদের জন্য হতে পারে প্রাণঘাতী; জানুন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা ও সঠিক সতর্কতা।

‘অ্যান আপেল আ ডে, কিপস দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে’—স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এই প্রবাদটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘ইমিউনিটি’ (Immunity) বৃদ্ধির জন্য আপেলের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু অমৃতসম এই ফলের ভেতরেই যে লুকিয়ে আছে মৃত্যুর কারণ, তা অনেকেরই অজানা। আপেলের বীজে রয়েছে মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান, যা অসাবধানতাবশত শরীরে প্রবেশ করলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।

বিষের নাম ‘সায়ানাইড’: বিজ্ঞান কী বলছে?

আপেলের বীজে প্রাকৃতিকভাবেই খুব অল্প পরিমাণে সায়ানাইড (Cyanide) থাকে। রাসায়নিকভাবে একে বলা হয় অ্যামিগডালিন, যা এক ধরনের ‘সায়ানোজেনিক যৌগ’ (Cyanogenic Compound)। আপেলের বীজ বা বিচি সাধারণত খুব শক্ত আবরণে ঢাকা থাকে। এই শক্ত খোলসটি বীজকে মানুষের হজম প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করে।

ফলে, কেউ যদি ভুলবশত আস্ত বীজ গিলে ফেলেন, তবে ভয়ের বিশেষ কোনো কারণ নেই। কারণ, শক্ত আবরণ ভেদ করে বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে না এবং তা মলের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু বিপদ ঘটে তখনই, যখন কেউ বীজটি দাঁত দিয়ে চিবিয়ে বা পিষে খেয়ে ফেলেন। চিবানোর ফলে বীজের ওপরের শক্ত খোলস ভেঙে যায় এবং ভেতরের সায়ানোজেনিক যৌগ সরাসরি শরীরের এনজাইমের সংস্পর্শে এসে সায়ানাইড গ্যাস নিঃসরণ শুরু করে।

বড়দের জন্য ঝুঁকি কতটা? শরীর কি প্রতিরোধ করতে পারে?

মানবদেহ প্রাকৃতিকভাবেই ছোটখাটো টক্সিন বা বিষের মোকাবিলা করতে সক্ষম। একটি বা দুটি আপেলের বীজে যে পরিমাণ টক্সিন থাকে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর তা সহজেই ‘ডিটক্সিফাই’ (Detoxify) বা নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে পারে।

বিজ্ঞানীদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন ৭০ কেজি ওজনের সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতি কেজি ওজনে প্রায় ১ মিলিগ্রাম সায়ানাইড প্রাণঘাতী হতে পারে। একটি আপেলের বীজে গড়ে প্রায় ০.৪৯ মিলিগ্রাম সায়ানোজেনিক যৌগ থাকে। সেই হিসেবে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে হলে তাকে একাধারে অন্তত ১৪৩টি বীজ চিবিয়ে খেতে হবে, যা প্রায় ১৮টি আপেলের সমান। তাই দু-একটি বীজ ভুল করে খেয়ে ফেললে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আতঙ্কের কিছু নেই।

শিশুদের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’: অবহেলায় হতে পারে ট্রাজেডি

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঝুঁকি কম হলেও, শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক। শিশুদের শরীরের ওজন (Body Weight) এবং বিপাক ক্ষমতা বড়দের তুলনায় অনেক কম। ফলে, তাদের শরীরে সামান্য পরিমাণ সায়ানাইডও মারাত্মক বিষক্রিয়া বা ‘পয়জনিং’ সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষণা বলছে, একটি শিশুর জন্য মাত্র ৪-৫টি আপেলের বীজ চিবিয়ে খাওয়াই প্রাণঘাতী হতে পারে। সায়ানাইডের প্রভাবে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং দ্রুততম সময়ে মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা থাকে। তাই অভিভাবকদের জন্য এটি একটি ‘সিরিয়াস ওয়ার্নিং’। শিশুদের হাতে আপেল তুলে দেওয়ার আগে বা ব্লেন্ডারে জুস করার আগে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি বীজ ফেলে দেওয়া বা রিমুভ করা জরুরি।

সতর্কতাই সমাধান

আপেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর বীজের বিষাক্ততা সম্পর্কে সচেতন থাকাটা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এবং যারা আপেলের জুস বা স্মুদি তৈরি করেন, তাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনোভাবেই বীজ ফলের সঙ্গে মিশে না যায়। সামান্য একটু সচেতনতাই আপনাকে ও আপনার পরিবারকে বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

Tags: health tips food safety healthy lifestyle child health nutrition facts apple seeds toxicity cyanide poisoning science explained