• দেশজুড়ে
  • সুদানে সন্ত্রাসী হামলা: অনাগত সন্তানের মুখ দেখা হলো না শান্তর, পাগলপ্রায় মমিনুলের মা

সুদানে সন্ত্রাসী হামলা: অনাগত সন্তানের মুখ দেখা হলো না শান্তর, পাগলপ্রায় মমিনুলের মা

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন কুড়িগ্রামের দুই সেনা সদস্য শান্ত মণ্ডল ও মমিনুল ইসলাম। শান্তর স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং মমিনুলের মা ছেলের শোকে পাগলপ্রায়।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সুদানে সন্ত্রাসী হামলা: অনাগত সন্তানের মুখ দেখা হলো না শান্তর, পাগলপ্রায় মমিনুলের মা

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি সেনা সদস্যের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটের শান্ত মণ্ডল (২৭) এবং উলিপুর উপজেলার মমিনুল ইসলাম (৩৭) গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সুদানে এই হামলার শিকার হন। নিহত শান্তর স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, যার অনাগত সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না তার। এদিকে মমিনুলের মা ছেলের মৃত্যু সংবাদে প্রায় পাগলপ্রায়। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না।

জাতিসংঘের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা ও হতাহতের তথ্য

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সুদানের সন্ত্রাসীরা আকস্মিকভাবে ইউএন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। হামলার সময় ঘাঁটি এবং এর আশেপাশে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের ছয় সদস্য নিহত এবং অন্তত আট সদস্য আহত হন। নিহত দুই সদস্য শান্ত মণ্ডল ও মমিনুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রামে।

শহীদ শান্ত মণ্ডলের পারিবারিক শোক

শহীদ সেনাসদস্য শান্ত মণ্ডলের (২৭) বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাটমাধাই ডারারপাড়া গ্রামে। ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন শান্ত এবং সর্বশেষ বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। গত ৭ নভেম্বর তিনি শান্তিরক্ষী মিশনে সুদানে যান। তার বড় ভাই সোহাগ মণ্ডলও সেনাবাহিনীতে কর্মরত। শান্ত এক বছর আগে বিয়ে করেন এবং তার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়িতে আছেন। সোহাগ মণ্ডল জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শান্ত ভিডিও কলে সবার সাথে কথা বলেছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের ক্যাম্পে হামলার খবর আসে এবং জানা যায় শান্তসহ আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

মমিনুল ইসলামের বাড়িতে স্বজনদের কান্না

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত অপর সেনাসদস্য মমিনুল ইসলামের (৩৭) বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের পারুলেরপাড় গ্রামে। তিনি ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং মাসখানেক আগে সুদানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তার বাবা-মা, ভাই, স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। শনিবার বিকেলে ভিডিও কলে মমিনুল পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং এলাকার খোঁজখবর নেন। রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যুর খবর এলে পরিবারের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে যান।

মমিনুলের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তার মৃত্যু সংবাদে সেখানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন। আকস্মিক এই মৃত্যুর শোকে তার স্ত্রী, ভাই-বোন ও মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মমিনুলের মা মনোয়ারা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, নভেম্বর মাসে বিদেশ যাওয়ার সময় মমিনুল তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন— ‘মা কান্না করো না। আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমার বাপটা কারও ক্ষতি করেনি, তাও কেন ওরা মোর বাপক মা‌রি ফেলাইলো?’

মমিনুলের বাবা আব্দুল করিম বলেন, “আমার ছেলে অনেক ভালো মানুষ ছিল, এলাকার সবাই তাকে ভালোবাসত। আমার বাবা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, আমার বাবা শহীদ হয়েছে। আপনারা সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

Tags: bangladesh army tragedy kurigram news un peacekeeping mission sudan attack shanto mandal mominul islam