• প্রযুক্তি
  • জাপানি প্রযুক্তির নতুন বিস্ময়: বাজারে এল ‘মানব ওয়াশিং মেশিন’, দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

জাপানি প্রযুক্তির নতুন বিস্ময়: বাজারে এল ‘মানব ওয়াশিং মেশিন’, দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
জাপানি প্রযুক্তির নতুন বিস্ময়: বাজারে এল ‘মানব ওয়াশিং মেশিন’, দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

পডে শুয়ে থাকলেই সাফ হবে শরীর, মিলবে মানসিক প্রশান্তি; ১৯৭০-এর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিল জাপানি সংস্থা ‘সায়েন্স’, জানুন আকাশছোঁয়া দাম ও ফিচার।

কল্পবিজ্ঞান বা ‘Sci-Fi’ সিনেমার দৃশ্য আর পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই, এবার তা ধরা দিল বাস্তবে। কাপড় কাচার মেশিনের মতো এবার মানুষের শরীর ধোয়ার জন্যও বাজারে এল আস্ত এক যন্ত্র! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, প্রযুক্তির পীঠস্থান জাপানে এটি এখন ঘোর বাস্তব। জাপানি টেক-প্রতিষ্ঠান ‘সায়েন্স’ (Science) নিয়ে এসেছে বহুচর্চিত ‘Human Washing Machine’, যা কেবল শরীর পরিষ্কারই করবে না, বরং ব্যবহারকারীকে দেবে এক অনন্য মানসিক প্রশান্তি।

শরীর ও মনের ‘ডিটক্সিফিকেশন’: প্রযুক্তির অভিনব চমক

‘হিউম্যান ওয়াশার অব দ্য ফিউচার’—নামেই যার ভবিষৎদ্রষ্টা ইঙ্গিত। এই যন্ত্রটি দেখতে অনেকটা একটি আবৃত ‘Pod’ বা ক্যাপসুলের মতো। ব্যবহার পদ্ধতিও বেশ সহজ ও আরামদায়ক। ব্যবহারকারীকে কেবল পডের ভেতরে গিয়ে শুয়ে ঢাকনাটি বন্ধ করতে হবে। বাকি কাজ করবে যন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘AI’।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই মেশিনটি কেবল শরীরের ময়লা পরিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ব্যবহারকারীর ‘Physical Vitals’ বা শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি ব্যবহারকারীর ‘Heart Rate’ বা হৃদস্পন্দন এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক ডেটা মনিটর করবে। সেই অনুযায়ী জলের তাপমাত্রা, চাপ এবং বাবল বা বুদবুদের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে শরীরকে দেবে ‘Deep Relaxation’। নির্মাতা সংস্থা সায়েন্স-এর মুখপাত্র সাচিকো মায়েকুরার ভাষায়, ‘‘এই মেশিন শুধু শরীর নয়, মনও পরিষ্কার করে দেবে।’’

১৯৭০-এর স্বপ্ন থেকে ২০২৫-এর বাস্তব

এই বিস্ময়কর উদ্ভাবনের নেপথ্যে রয়েছে অর্ধশতাব্দী প্রাচীন এক স্বপ্ন। ১৯৭০ সালে ওসাকা এক্সপোতে ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট সানিও (Sanyo) প্রথম এমন একটি ‘Ultrasonic Bath’ বা মানব ওয়াশিং মেশিনের ধারণা প্রদর্শন করেছিল। তখন বিষয়টি ছিল সময়ের চেয়েও অনেক এগিয়ে।

বর্তমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘সায়েন্স’-এর প্রেসিডেন্ট তখন ছিলেন মাত্র ১০ বছরের এক শিশু। সেই প্রদর্শনীতে দেখা যন্ত্রটি তার মনে গভীর দাগ কেটেছিল। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর, শৈশবের সেই অনুপ্রেরণাকেই তিনি আধুনিক প্রযুক্তির মোড়কে বাস্তবে রূপ দিলেন। গত অক্টোবরে ওসাকা কানসাই এক্সপোতে (Osaka Kansai Expo) যখন এর মডেল প্রথম প্রদর্শিত হয়, তখন এই ফিউচারিস্টিক যন্ত্রটি একনজর দেখার জন্য দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে গিয়েছিল।

আকাশছোঁয়া দাম ও ‘লিমিটেড এডিশন’

প্রযুক্তিটি অভিনব হলেও এর দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। বিলাসবহুল এই ‘Human Washing Machine’-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ইয়েন, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি)।

কোম্পানির মুখপাত্র জানান, এটি একটি ‘Rare Collectible’ বা অত্যন্ত বিরল পণ্য হিসেবেই বাজারে ছাড়া হচ্ছে। আপাতত মাত্র ৫০টি ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যা এটিকে আরও ‘Exclusive’ করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই ওসাকার একটি অভিজাত হোটেল তাদের ভিআইপি অতিথিদের ‘Premium Experience’ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রথম মেশিনটি কিনে নিয়েছে। খুব শীঘ্রই পর্যটকরা এই হোটেলে গিয়ে মানব ওয়াশিং মেশিনের সেবা উপভোগ করতে পারবেন।

Tags: innovation tech news luxury lifestyle japan technology human washing machine science co ltd osaka expo weird news health and wellness