• দেশজুড়ে
  • বিজয়ের মাসে জাতীয় পতাকা বিক্রিতে চরম ভাটা, হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

বিজয়ের মাসে জাতীয় পতাকা বিক্রিতে চরম ভাটা, হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

অন্য বছরের তুলনায় এবার জাতীয় পতাকা বিক্রি কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, বলছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে বলছেন, নির্বাচিত সরকার না থাকায় উৎসবের আমেজ কম হওয়াও এর কারণ হতে পারে।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
বিজয়ের মাসে জাতীয় পতাকা বিক্রিতে চরম ভাটা, হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিবারের মতো এবারও শুরু হয়েছে জাতীয় পতাকা বিক্রেতাদের আনাগোনা। ডিসেম্বর মাস শুরুর দিন থেকেই পাড়া-মহল্লা, অলি-গলিতে ফেরি করে পতাকা বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি অনেক কম হওয়ায় তারা হতাশায় পড়েছেন। অনেকে দুশ্চিন্তা করছেন— গাড়িভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ উঠবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

পতাকা ও অন্য সামগ্রীর দাম

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা বড় লাঠি বা পাইপের সঙ্গে ঝুলিয়ে বিভিন্ন আকারের জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন। ছোট কাগজের পতাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাপের কাপড়ের পতাকা ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিজয় দিবস লেখা মাথার বেল্ট, কপালে বাঁধার ফিতা ও অন্যান্য সামগ্রীও তারা বিক্রি করছেন।

তুলনামূলকভাবে দলীয় পতাকার চাহিদা বেশি

তবে এই বছর জাতীয় পতাকার পাশাপাশি অনেক বিক্রেতার কাছে বিএনপি ও জামায়াতের দলীয় পতাকাও চোখে পড়েছে। বিক্রেতাদের মতে, জাতীয় পতাকার তুলনায় দলীয় পতাকার চাহিদা এবার তুলনামূলকভাবে বেশি।

ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

মনছুরাবাদ এলাকার খুদে ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি সারা বছর আচারের ব্যবসা করলেও গত এক দশক ধরে বিজয়ের মাসে বাড়তি আয়ের আশায় পতাকা বিক্রি করেন। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে দেওয়ানহাট মোড়ে পতাকা ফেরি করার সময় তিনি জানান, গত বছরও দিনে ১৭০০ থেকে ৩০০০ টাকার পতাকা বিক্রি হলেও এবার তা এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এই পুরো দিনে এক হাজার টাকার পতাকাও বিক্রি হয় না। তবে বিক্রি কম হলেও বিজয়ের মাসে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের পতাকা ফেরি করছেন, এটাই তার কাছে গর্বের বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, নির্বাচিত সরকার না থাকায় মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ কম, যা বিক্রির ভাটার অন্যতম কারণ হতে পারে।

গোপালগঞ্জ থেকে আসা মো. সজিব চৌমুহনী এলাকায় পতাকা বিক্রি করছেন। তার অবস্থা আরও খারাপ—শনিবার মাত্র ৩০ টাকার পতাকা বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, লাভের কথা দূরে থাক, থাকা-খাওয়ার খরচ ওঠানোই এখন কঠিন। চারজন মিলে পাহাড়তলী এলাকায় একটি মেসে থাকছেন তারা, যেখানে বোর্ডিং ভাড়াই প্রতিদিন ১৫০ টাকা।

হালিশহরের ফইল্ল্যাতলী বাজার এলাকার ডেকোরেশন কর্মী মো. সোহেল, যিনি গত সাত বছর ধরে জাতীয় দিবসে পতাকা বিক্রি করেন, হতাশ হয়ে বলেন, ‘এবার বেচাবিক্রি একেবারেই নেই। মাথায় হাত পড়ে গেছে।’

১৬ ডিসেম্বরের অপেক্ষায় সবাই

নারায়ণগঞ্জ থেকে ৪০ জন সঙ্গীর সঙ্গে চট্টগ্রামে আসা মো. ওমর ফারুক এক যুগের বেশি সময় ধরে এই মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, ‘আগে ভালো লাভ নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। এবার গাড়িভাড়া আর থাকা-খরচ উঠবে কি না, সেটাই বড় দুশ্চিন্তা।’

লালখান বাজার এলাকায় সত্তরোর্ধ মো. আবুল কালাম জাতীয় স্মৃতিসৌধের আকৃতিতে পতাকা সাজিয়ে বিক্রি করছিলেন। তিনিও সাত বছর ধরে বিজয়ের মাসে পতাকা বিক্রি করছেন। তিনি জানান, দুপুর ১২টায় বের হলেও বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ঠিকমতো চায়ের খরচও ওঠেনি।

বিজয়ের মাসে লাল-সবুজের পতাকার বিক্রি কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের অসংখ্য মৌসুমি ব্যবসায়ী বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। এখন তাদের একমাত্র ভরসা মহান বিজয় দিবস, অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর।

Tags: chittagong business crisis victory day national flag seasonal business political climate