অস্ট্রেলিয়ার পর্যটনের প্রাণকেন্দ্র এবং বিশ্বখ্যাত বন্ডাই বিচ মুহূর্তেই পরিণত হলো মৃত্যুপুরীতে। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দুই বন্দুকধারীর নারকীয় তাণ্ডবে সৈকতের বালুকাবেলা রঞ্জিত হলো রক্তে। এই বর্বরোচিত হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। ভয়াবহ এই ঘটনার তদন্তে নেমে হামলাকারীদের একজনকে শনাক্ত করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, যার নাম নাভিদ আকরাম।
শনাক্ত নাভিদ আকরাম: বনিরিগে পুলিশের অভিযান
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এবং এবিসি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হামলাকারী নাভিদ আকরাম সিডনি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা। ভয়াবহ এই হামলার পরপরই রবিবার সন্ধ্যায় সিডনির বনিরিগ (Bonnyrigg) শহরতলিতে নাভিদ আকরামের বাসভবনে বড়সড় ‘Raid’ বা অভিযান চালায় পুলিশ।
তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি যে, ঘটনাস্থলে নিহত বন্দুকধারী নাকি গুরুতর আহত অবস্থায় আটক ব্যক্তি—কে এই নাভিদ আকরাম। এ বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে ‘Forensic Identification’ প্রক্রিয়া চলছে। আটককৃত দ্বিতীয় সন্দেহভাজনের অবস্থা অত্যন্ত ‘Critical’ বা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হামলার ভয়াবহতা ও পুলিশের পাল্টা জবাব
রবিবারের ছুটির মেজাজে থাকা বন্ডাই বিচে আচমকাই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই বন্দুকধারী অতর্কিতভাবে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ‘Action’-এ যায় পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে এক হামলাকারী। অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আটক করা হয়।
গাড়িতে মিলল ‘আইইডি’: বড় নাশকতার ছক?
হামলা শুধু গুলিবর্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল আরও বড় কোনো নাশকতার ছক। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল সংলগ্ন একটি গাড়ি থেকে বিপজ্জনক ‘Improvised Explosive Device’ (IED) বা হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার করেছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার মাল ল্যানিয়ন এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস পেয়েছি, যা নিহত অপরাধীর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, পুরো এলাকাটি এখন ‘Crime Scene’ হিসেবে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে আরও বেশ কিছু সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গেছে, যা পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ দল বা ‘Bomb Disposal Unit’-কে তলব করা হয়েছে। গাড়িটিতে পাওয়া বিস্ফোরকগুলো নিষ্ক্রিয় করতে এবং হামলার প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য উদঘাটনে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।