• আন্তর্জাতিক
  • ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল আসাদ মস্কোয় এখন চক্ষু চিকিৎসক হওয়ার পথে, পুতিনের আগ্রহ নেই

ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল আসাদ মস্কোয় এখন চক্ষু চিকিৎসক হওয়ার পথে, পুতিনের আগ্রহ নেই

১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রাশিয়া ও আমিরাতে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট। পুরোনো পেশায় ফিরতে মস্কোয় শুরু করেছেন চক্ষু চিকিৎসার পড়াশোনা, তবে রুশ প্রেসিডেন্টের আগ্রহ নেই।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল আসাদ মস্কোয় এখন চক্ষু চিকিৎসক হওয়ার পথে, পুতিনের আগ্রহ নেই

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞ শেষে তিনি এখন মস্কোয় চক্ষু চিকিৎসার পুরনো পেশায় ফিরতে পড়াশোনা শুরু করেছেন। তবে, ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা যায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতা হারানো এই নেতার প্রতি কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বিলাসিতা ও পেশাগত প্রত্যাবর্তন রাজা যায়, কিন্তু প্রজার ভাগ্য বদলায় না—সিরিয়ার ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। ক্ষমতাচ্যুতির পর বাশার আল আসাদ তার পরিবার নিয়ে রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক শান্তিপূর্ণ ও বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন। জানা গেছে, লন্ডনে চক্ষু চিকিৎসার ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়া আসাদ এখন মস্কোয় বসে পুরনো সেই পেশায় ফিরতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করেছেন। আসাদ পরিবারের এক বন্ধু এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা কামানোর উদ্দেশ্য নয়, বরং প্রবল আগ্রহ থেকেই তিনি রাশিয়ার এলিট ক্লায়েন্টদের জন্য চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে হাত পাকাতে চাইছেন। সিরিয়ায় যুদ্ধের আগেও তিনি দামেস্কে নিয়মিত চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন।

স্ত্রীর চিকিৎসা ও গণমাধ্যমে আগ্রহ সাবেক এই স্বৈরশাসকের স্ত্রী আসমা আল আসাদ মস্কোয় পরীক্ষামূলক (Experimental) লিউকেমিয়ার চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার পরই আসাদ গণমাধ্যমে নিজের ‘সাইড স্টোরি’ দিয়ে শিরোনাম হতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি স্বেচ্ছায় মার্কিন ও রুশ মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিতেও প্রস্তুত। তবে, রুশ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাঁর পক্ষে কোনো ধরনের সাক্ষাৎকার দেওয়া সম্ভব নয়।

পুতিনের অনীহা ও রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস ২০২৪ সালের নভেম্বরে ১৪ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর ক্ষমতাচ্যুত হন বাশার আল আসাদ। এই যুদ্ধে প্রায় ৬ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। একেবারে শেষ মুহূর্তে তিনি রাশিয়া পালিয়ে গেলেও, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁকে নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ক্রেমলিনের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, পুতিনের কাছে ক্ষমতা হারানো নেতাদের জন্য ধৈর্য থাকে না। তাই আসাদকে এখন প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তিত্ব বা ডিনারে দাওয়াত দেওয়ার মতো অতিথিও মনে করেন না পুতিন।

পারিবারিক জীবন ও যোগাযোগ ক্ষমতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই আসাদ পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবও কমে এসেছে। তারা বর্তমানে মস্কো ও আমিরাতে নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত আসাদের সন্তানদের দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে উঠেছে, যেখানে তারা প্রায়ই বেড়াতে যান। বহির্বিশ্বের সঙ্গে আসাদের খুব একটা যোগাযোগ নেই; বরং তাঁর প্রাসাদে থাকা হাতেগোনা কয়েকজনের সঙ্গেই তাঁর যোগাযোগ সীমাবদ্ধ। একাকী জীবন কাটালেও আসাদ বা তাঁর পরিবারের বিলাসিতায় কোনো কমতি নেই।

Tags: vladimir putin syria bashar al assad russia asma al-assad civil war ophthalmology