অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে এই বিশেষ আয়োজন শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর কলেজের গবেষণা ও মননশীল কাজের সংকলন, ‘জার্নাল অব ইডেন মহিলা কলেজ-২০২৫’ এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম। তিনি তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, অনেকে যুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করতে চান, তবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আকস্মিক পাকিস্তানি হামলার পর পরিস্থিতি আর রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে থাকেনি, তা সরাসরি সামরিক অভিযানে রূপ নেয়। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি প্রত্যক্ষ সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে বিজয় অর্জিত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা মানে শুধু একটি ভূখণ্ড বা মানচিত্র পাওয়া নয়, এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬-এর ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথিদের অভিমত
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও জার্নাল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা পারভীন। বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাঙালির আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে সঞ্চারিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা একমত পোষণ করেন যে, বিজয় দিবস নিছক একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির জাতীয় অস্তিত্ব, আত্মপরিচয় ও গৌরবের প্রতীক।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উপস্থিতি
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।