• আন্তর্জাতিক
  • সিডনির বন্ডাই সৈকতে নৃশংস 'গণহত্যা': ১৫ প্রাণহানিতে জড়িত ভারতীয় নাগরিক, তদন্তে 'সন্ত্রাসবাদ' যোগ

সিডনির বন্ডাই সৈকতে নৃশংস 'গণহত্যা': ১৫ প্রাণহানিতে জড়িত ভারতীয় নাগরিক, তদন্তে 'সন্ত্রাসবাদ' যোগ

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
সিডনির বন্ডাই সৈকতে নৃশংস 'গণহত্যা': ১৫ প্রাণহানিতে জড়িত ভারতীয় নাগরিক, তদন্তে 'সন্ত্রাসবাদ' যোগ

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে গত তিন দশকের ভয়াবহতম এই হামলায় পুলিশের গুলিতে নিহত মূল হোতা সাজিদ আকরাম; হায়দ্রাবাদ থেকে সিডনি—খতিয়ে দেখা হচ্ছে 'জঙ্গি সংযোগ' ও ফিলিপাইন ভ্রমণের রহস্য।

রক্তে রঞ্জিত অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত বন্ডাই সমুদ্র সৈকত। গত রোববার সেখানে ঘটে যাওয়া নৃশংস গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্তব্ধ পুরো বিশ্ব। অন্তত ১৫ জন নিরিহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া এই ভয়াবহ Mass Shooting-এর ঘটনায় এবার বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। হামলাকারী দুবর্ৃত্তের একজন ভারতের নাগরিক। দক্ষিণ ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে প্রায় তিন দশক আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো ওই ব্যক্তির নাম সাজিদ আকরাম (৫০)। পুলিশের পাল্টা হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই লোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ একে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো সুপরিকল্পিত Terrorist Attack বা সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে।

বাবা-ছেলের 'কিলিং মিশন' ও পুলিশের পাল্টা আঘাত

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই নারকীয় হামলায় সাজিদ আকরাম একা ছিলেন না, তার সঙ্গী ছিলেন তারই ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম। বন্ডাই বিচে যখন নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছিল, তখন পুলিশের পাল্টা গুলিতে প্রাণ হারান বাবা সাজিদ। তবে ছেলে নাভিদ প্রাণে বেঁচে গেলেও বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ৩০ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ Gun Violence-এর ঘটনা। এই ঘটনার তদন্তে নেমে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ ও গোয়েন্দারা এখন হামলাকারীদের মোটিভ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড তন্নতন্ন করে খুঁজছেন।

হায়দ্রাবাদ টু সিডনি: সাজিদের অতীত বৃত্তান্ত

তেলেঙ্গানা পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) জানিয়েছেন, নিহত হামলাকারী সাজিদ আকরামের আদি বাড়ি হায়দ্রাবাদে। ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে Student Visa নিয়ে তিনি প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। ভারত ছাড়ার আগে তিনি হায়দ্রাবাদ থেকেই বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন।

দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেও, ভারতের মাটির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল যৎসামান্য। তদন্তে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তিনি ভেনেরা গ্রোসো নাম্নী এক নারীকে বিয়ে করেন, যিনি ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। এই দম্পতির দুই সন্তান—অভিযুক্ত নাভিদ এবং এক মেয়ে। বাবার ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলেও, অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া তার দুই সন্তানই সেখানকার Citizenship বা নাগরিকত্ব প্রাপ্ত।

বিচ্ছিন্ন পারিবারিক সম্পর্ক ও রহস্যময় আচরণ

ভারতীয় তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হায়দ্রাবাদে থাকা পরিবারের সঙ্গে সাজিদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত শীতল। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বহু বছর আগেই আত্মীয়স্বজনরা তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। এমনকি ২০১৭ সালে নিজের বাবার মৃত্যুর পর জানাজাতেও অংশ নিতে দেশে আসেননি তিনি।

সর্বশেষ ২০২২ সালে তিনি একবার হায়দ্রাবাদে এসেছিলেন। তবে তার সেই সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাজিদের এই বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন এবং হঠাৎ করে এমন উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া ভাবিয়ে তুলেছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

ফিলিপাইন ভ্রমণ ও 'সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ' সন্দেহ

অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের Investigation-এ উঠে এসেছে আরেকটি উদ্বেগজনক তথ্য। হামলার ঠিক মাসখানেক আগেই বাবা সাজিদ ও ছেলে নাভিদ ফিলিপাইন সফরে গিয়েছিলেন। ভ্রমণের সময় সাজিদের ব্যবহার করা পাসপোর্টি ছিল ভারতীয়, আর নাভিদের ছিল অস্ট্রেলিয়ান।

কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিছক পর্যটন ছিল না। তারা সেখানে কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন কি না, কিংবা কোনো ধরনের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কি না—তা এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তেলেঙ্গানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ১৯৯৮ সালে দেশ ছাড়ার পর সাজিদ আকরাম মোট ছয়বার ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু তার এবারের 'মিশন' যে এতটা ভয়ংকর হবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ। বন্ডাই বিচের এই রক্তস্রোত এখন কেবল অস্ট্রেলিয়ার নয়, বরং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tags: crime news breaking news australia news terrorist attack sydney attack bondi beach sajid akram indian national mass shooting hyderabad police