চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার ও পুলিশের বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরে বরিশালে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে 'শয়তানের নিঃশ্বাস' ছড়িয়ে তাদের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল এই চক্রের সদস্যরা। এ বিষয়ে থানায় একাধিক মামলাও দায়ের হয়েছিল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম জানান, তথ্য প্রযুক্তি এবং সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র্যাব-৮ এর সহযোগিতায় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী থেকে চক্রের সদস্য নাসির গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নাসির গাজী পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ভুক্তভোগীর ছেলের মামলা ও দাবি নাসির গাজী গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে থানায় হাজির হন ভুক্তভোগী তাহমিনা বেগমের ছেলে, এবি পার্টির বরিশাল মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তানভীর। তিনি জানান, চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর নগরীর ধান গবেষণা রোডে এই চক্রটি তার মাকে সম্মোহিত করে স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও র্যাব-৮ এর সহযোগিতায় নাসির গাজী গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ আসলে কী? 'শয়তানের নিঃশ্বাস' বা 'Devil's Breath' মূলত স্কোপোলামিন (Scopolamine) নামক একটি শক্তিশালী ওষুধ। এই রাসায়নিক উপাদানটি মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে সম্মোহিতের মতো করে তোলে, তাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পায় এবং তারা অপরাধীদের নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়। এই ভয়ংকর মাদকটি ব্যবহার করে চক্রটি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে আসছিল।
চক্রের অন্যান্য গুরুতর অপরাধ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া ছাড়াও এই চক্রের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল নগরী থেকে এক গৃহবধূকে সম্মোহিত করে ঢাকায় নিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে 'শয়তানের নিঃশ্বাস' চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।