রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) শুরু করেছে বিশেষ ‘সাঁড়াশি অভিযান’। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’। এই মেগা ড্রাইভের আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৩৯২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারের তালিকায় কারা?
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনভর চালানো এই অভিযানে জালে আটকা পড়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির অপরাধীরা। গ্রেফতারকৃত ৩৯২ জনের মধ্যে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৫ জন ‘অ্যাক্টিভ’ নেতাকর্মী রয়েছেন। এছাড়াও বাকি ৩৭৭ জন বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি (Warrant Accused) এবং এজাহারনামীয় অপরাধী। পুলিশের দাবি, অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেই এই ‘Mass Arrest’ বা গণগ্রেফতার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
এন্ট্রি-এক্সিট পয়েন্টে ‘স্পেশাল চেকপোস্ট’
শুধু অভিযান নয়, বুধবার বিকেল থেকেই রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে (Entry and Exit Points) নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডিএমপি। মূলত সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অস্ত্র বা মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শহরের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয় ‘স্পেশাল চেকপোস্ট’।
বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রমে মোট ৭৬৯টি বিভিন্ন ধরনের প্রাইভেট ও পাবলিক ট্রান্সপোর্ট তল্লাশি করা হয়। চেকপোস্টে তল্লাশি চলাকালীন সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ৫ জনকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশ।
চলবে জিরো টলারেন্স নীতি
ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা বা ‘Public Safety’ নিশ্চিত করতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী দমনে এই হাই-প্রোফাইল অপারেশন এবং সারপ্রাইজ ড্রাইভগুলো আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।