• দেশজুড়ে
  • 'গ্রিন জোন' রিসোর্টে সাড়ে তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক, সাভারেই চূড়ান্ত হয় হাদি হত্যার 'কিলিং মিশন'

'গ্রিন জোন' রিসোর্টে সাড়ে তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক, সাভারেই চূড়ান্ত হয় হাদি হত্যার 'কিলিং মিশন'

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
'গ্রিন জোন' রিসোর্টে সাড়ে তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক, সাভারেই চূড়ান্ত হয় হাদি হত্যার 'কিলিং মিশন'

সিসিটিভি ফুটেজ ও অডিও রেকর্ড গোয়েন্দাদের হাতে; ভোরে রিসোর্টের ২০৪ নম্বর কক্ষে বসেই হামলার ছক কষেছিল শুটার ফয়সাল ও তার সঙ্গীরা।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি কোনো আকস্মিক উত্তেজনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করা এক ঠান্ডা মাথার ‘কিলিং মিশন’ (Killing Mission)। আর এই ভয়াবহ হামলার মূল নকশা বা Blueprint তৈরি করা হয়েছিল রাজধানীর অদূরে সাভারের এক নির্জন রিসোর্টে। গোয়েন্দা সংস্থার নিবিড় তদন্তে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সাভারের রিসোর্টে 'ব্লু-প্রিন্ট' ও মাস্টারমাইন্ডরা

গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ভোররাতে সাভারের মধুমতি মডেল টাউনের ভেতরে অবস্থিত ‘গ্রিন জোন’ নামের একটি রিসোর্টে বসেছিল এক গোপন বৈঠক। তদন্তকারীদের ধারণা, সেখানেই হাদিকে হত্যার চূড়ান্ত ছক কষা হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিল ‘কিলিং মিশন’-এর প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান, তার বান্ধবী মারিয়া, সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক নারী।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (DMP) একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল সাভারের ওই রিসোর্টে ‘স্পট ভিজিট’ (Spot Visit) করে এবং বিশদ তদন্ত চালায়। সাভার মডেল থানা পুলিশও এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর তথ্য

তদন্তকারীদের হাতে আসা রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অভিযুক্তরা শুক্রবার ভোর ৫টা ২৩ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষে অবস্থান করছিল। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই হামলার খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিসোর্টের রেকর্ড বুক ও ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাত অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আনুমানিক ৩টার দিকে মিরপুরের বাসিন্দা ও এই মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আলমগীর হোসেন রিসোর্টের নাইট ডিউটিতে থাকা কর্মী হাবিবুর রহমান সিয়ামের মাধ্যমে ২০৪ নম্বর কক্ষটি বুকিং দেন। এরপর রাত ৪টা ৮ মিনিটে আলমগীরের পরিচয়ে দুই নারী ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আলমগীর ও শুটার ফয়সাল ওই দুই নারীকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্ট ত্যাগ করেন।

অডিও রেকর্ড ও গোয়েন্দা তৎপরতা

গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে (Surveillance) উঠে এসেছে যে, হাদি হত্যাচেষ্টায় জড়িতরা ওই রিসোর্টের কক্ষেই একত্রিত হয়েছিল হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজাতে। শুধু সিসিটিভি ফুটেজই নয়, গোয়েন্দাদের হাতে এখন ওই সময়ের কথোপকথনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘অডিও রেকর্ড’ (Audio Record)-ও রয়েছে, যা মামলার তদন্তে বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীর সঙ্গে দাপ্তরিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের তিনি মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন যে, হাদির ওপর হামলার ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই শুটার ফয়সাল ও আলমগীর মধুমতি মডেল টাউন এলাকা থেকে বেরিয়ে যায়। বর্তমানে ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে।

Tags: bangladesh police cctv footage inqilab mancha sharif osman savar resort killing mission dmp news crime investigation