প্রকৃতির রুদ্ররোষে আবারও কেঁপে উঠল আফগানিস্তানের মাটি। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে ৫.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরে যখন অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এই কম্পন অনুভূত হয়। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের (GFZ) তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কুন্দুজ শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দূরে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার। ভূতাত্ত্বিক ভাষায় অত্যন্ত অগভীর বা 'Shallow Earthquake' হওয়ার কারণে কম্পনের তীব্রতা বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে।
আতঙ্কে রাজপথে বাসিন্দারা
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম্পন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন। বিশেষ করে কুন্দুজ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মানুষের মধ্যে 'Traumatic Stress' লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি কিংবা বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির (Structural Damage) খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গম এলাকাগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তাই ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত চিত্র পেতে তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি রাখছেন।
ভৌগোলিক ঝুঁকি ও সাম্প্রতিক ক্ষত
আফগানিস্তান ভৌগোলিকভাবেই ভারতীয় ও ইউরেশীয় 'Tectonic Plate'-এর সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। গত কয়েক মাস ধরেই দেশটি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী সব ভূকম্পনের শিকার হচ্ছে। মাত্র এক মাস আগে উত্তর আফগানিস্তানের বলখ, সামাঙ্গান ও কুন্দুজসহ বিশাল এলাকায় ৬.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই দুর্যোগে কমপক্ষে ২৭ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন সহস্রাধিক মানুষ।
ধ্বংসযজ্ঞের দুঃসহ স্মৃতি
চলতি বছরের আগস্ট মাসে পূর্ব আফগানিস্তানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই 'Catastrophic' দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ এবং আহত হন প্রায় ৪ হাজার। বিশেষ করে কুনার প্রদেশ সেই ভূমিকম্পে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি আফগান নাগরিকরা। এর মধ্যেই আজকের এই ৫.৭ মাত্রার কম্পন সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে 'Natural Disaster' বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আফগানিস্তানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার অভাব সামান্য কম্পনকেও ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপান্তর করতে পারে। আজকের এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় এড়ানো গেলেও আফগান ভূখণ্ডে ঘনঘন এমন কম্পন বড় কোনো বিপদের সংকেত কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ভূবিজ্ঞানীরা।