নাইট ইটিং ডিসঅর্ডার (NED) কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার খাওয়ার পরেও যদি মাঝরাতে অপ্রত্যাশিতভাবে ক্ষুধা লাগে এবং তার জন্য ঘুম ভেঙে যায়, তবে এটি শুধু সাধারণ খিদে নাও হতে পারে। এটি হলো 'নাইট ইটিং ডিসঅর্ডার' বা সংক্ষেপে NED, যা এক ধরনের খাওয়াজনিত সমস্যা (Eating Disorder)। এই সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি ক্রমশ বাড়তে থাকে।
সমস্যার মূল কারণসমূহ
বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন:
- অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা: পর্যাপ্ত বা গভীর ঘুম না হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- স্বল্প ক্যালরি গ্রহণ: সারাদিন ধরে যদি কেউ খুব কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খান, তবে রাতে শরীরের ক্যালরি চাহিদা মেটাতে ক্ষুধা লাগতে পারে।
- বংশগত কারণ: পরিবারে কারও যদি এই সমস্যা থাকে, তবে অন্যদেরও Night Eating Disorder-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: অত্যধিক মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে রাতের বেলায় খাদ্যের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।
কীভাবে বুঝবেন আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন? (লক্ষণ)
মাঝরাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগার পেছনে NED-এর লক্ষণগুলি নিম্নরূপ:
- সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন মাঝরাতে প্রবল খিদে পেয়ে ঘুম ভেঙে যায়।
- রাতে ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সহজে ঘুম আসে না বা বারবার ঘুম ভেঙে যায়।
- গভীর ঘুমিয়ে যাওয়ার পরও হঠাৎ উঠে খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।
সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:
- ধ্যান (মেডিটেশন): রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ মেডিটেশন বা ধ্যান করে মন শান্ত রাখার অভ্যাস করুন।
- সকালে জলপান: সকালে খালি পেটে কমপক্ষে দুই গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস শুরু করুন।
- ধূমপান বর্জন: রাতের খাবারের পর ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। কারণ, নিকোটিন হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে।
- চা এড়িয়ে চলা: খাবার শেষ করার পর চা পান করা থেকে বিরত থাকুন। চায়ের ট্যানিন আয়রন শোষণে বাধা দেয় এবং হজমের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
মাঝরাতে ক্ষুধা লাগা আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, এটি ভবিষ্যতে বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই নিয়মিত এমনটা ঘটলে গুরুত্ব দিয়ে জীবনযাত্রার অভ্যাস বদলান। প্রয়োজনে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।