• জাতীয়
  • বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা: দিল্লির ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান, ঢাকার নিরাপত্তা প্রশ্ন

বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা: দিল্লির ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান, ঢাকার নিরাপত্তা প্রশ্ন

কূটনৈতিক এলাকার এত ভেতরে কীভাবে বিক্ষোভকারীরা এলো, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ঢাকা। প্রয়োজন পড়লে ভারতে মিশন ছোট করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা: দিল্লির ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান, ঢাকার নিরাপত্তা প্রশ্ন

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে সম্প্রতি বিক্ষোভ ও হামলার চেষ্টার ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকা স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলেছে—কূটনৈতিক এলাকার এতো ভেতরে কীভাবে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করলো, যা হাইকমিশনের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

হামলার চেষ্টা ও দিল্লিকে প্রশ্ন ঢাকার

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন রোববার (২১ ডিসেম্বর, ২০২৫) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের দেওয়া প্রেসনোট পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান। তিনি বলেন, “দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ভারতের দেওয়া প্রেসনোট পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে ঢাকা। কূটনৈতিক এলাকার এতো ভেতরে কীভাবে বিক্ষোভকারীরা এলো—তা বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার যে চেষ্টা, এতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।” প্রয়োজনে ভারতে ঢাকার মিশন ছোট করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনা নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) প্রায় ২০-২৫ জন তরুণ ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি তোলেন। জয়সওয়ালের দাবি, কোনো সময়ই হাইকমিশনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ভিয়েনা কনভেনশন ও গভীর উদ্বেগ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত সব বিদেশি মিশন ও কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে। জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং ভারতীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারতের গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা ইস্যুতে ঢাকার অনড় অবস্থান

ভারতের ব্যাখ্যার বিপরীতে বাংলাদেশের অবস্থান অনড়। কূটনীতিক এলাকার কেন্দ্রে অবস্থিত একটি বিদেশি মিশনে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ এবং হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার চেষ্টার ঘটনাকে ঢাকা গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মধ্যে অসঙ্গতি ও মতবিরোধ স্পষ্ট।

Tags: india minority rights randhir jaiswal dipu chandra das bangladesh high commission diplomatic security new delhi protests tawhid hossain