গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরানোর লক্ষে ঘোষিত চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে রণদামামা বেজে উঠল। দীর্ঘ সংঘাতের পর সাধারণ মানুষের মনে যখন কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছিল, ঠিক তখনই উত্তর গাজায় বিমান হামলা (Airstrike) চালিয়ে সেই স্থিতিশীলতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক মহলের প্রবল চাপের মুখে গৃহীত এই ‘Ceasefire’ বা যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
‘ইয়েলো লাইন’ ও ইসরাইলি বাহিনীর দাবি
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) সামাজিক মাধ্যম ‘X’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, উত্তর গাজা উপত্যকায় নির্ধারিত ‘Yellow Line’ বা ইয়েলো লাইনের কাছে সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তিকে জড়ো হতে দেখা যায়। ইসরাইলি সামরিক পরিভাষায় এই ইয়েলো লাইন হলো গাজার অভ্যন্তরে তাদের নির্ধারিত একটি কঠোর সীমারেখা। ইসরাইলের অভিযোগ, ওই সীমারেখা অতিক্রম করে তিন ব্যক্তি তাদের বাহিনীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা তারা ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উত্তর গাজার আরও দুটি পৃথক স্থানে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি কমান্ডের দাবি, সম্ভাব্য ‘Threat’ বা ঝুঁকি নির্মূল করতেই তারা দ্রুত বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তেল আবিব।
যাচাইহীন অভিযোগ ও ফিলিস্তিনি নীরবতা
ইসরাইলের এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই দাবিগুলো যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এই বিমান হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ ধরনের অতর্কিত হামলা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
ঝুঁকির মুখে গাজার শান্তি প্রক্রিয়া
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যখন বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তখন এই বিমান হামলাকে অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। বিভিন্ন ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো লঙ্ঘন করছে। তাদের মতে, এ ধরনের উস্কানিমূলক সামরিক কর্মকাণ্ড বা ‘Military Operations’ শান্তি চুক্তির কার্যকারিতা নষ্ট করছে এবং উপত্যকায় মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্যতম ভুল বোঝাবুঝি বা উস্কানি বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেখানে সংঘাত বন্ধের জন্য ‘Diplomatic Pressure’ বজায় রাখছে, সেখানে ইসরাইলের এই বিমান হামলা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পর গাজার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।