ট্যাংকারট্র্যাকার ডটকম (TankerTrackers.com) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার দিকে যাত্রার সময় ‘বেলা-১’ বর্তমানে খালি রয়েছে। তবে কৌশলগতভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিপূর্বে এই জাহাজটি ভেনেজুয়েলার তেল সরাসরি চীনে পরিবহন করেছে এবং তারও আগে ইরানের তেল বহনের রেকর্ড রয়েছে এর।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদিও কোস্টগার্ড জাহাজটির পিছু নিয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্তভাবে সেটিতে আরোহণ বা Boarding করা সম্ভব হয়নি। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই রুদ্ধশ্বাস অপারেশনটি চলমান রয়েছে।
ট্রাম্পের কঠোর নির্দেশ ও করে তেল পাচারের অভিযোগে ‘বেলা-১’ জাহাজটিকে আটকাতে মরিয়া ওয়াশিংটন; দুই সপ্তাহে তৃতীয় অভিযানের মুখে বিতর্কিত এই নৌযান।
ক্যারিবিয়ান সাগরের নীল জলরাশি এখন ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যকার তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে একটি বিতর্কিত তেল ট্যাংকারকে আটকাতে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের Coast Guard। যদি এই অভিযান সফল হয়, তবে এটি হবে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় এবং মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে তৃতীয় কোনো বড় ধরনের সামুদ্রিক ধরপাকড়।
নিশানায় রহস্যময় ‘ডার্ক ফ্লিট’: কে এই ‘বেলা-১’?
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমানে ‘বেলা-১’ (Bella-1) নামক একটি বিশাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী (Crude Oil Tanker) জাহাজের পিছু নিয়েছে। জাহাজটি মূলত ‘ডার্ক ফ্লিট’ (Dark Fleet) বা রহস্যময় নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ধরনের জাহাজগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক Sanctions বা নিষেধাজ্ঞা এ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ**
এই অভিযানগুলো মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নতুন করে দেওয়া কঠোর নির্দেশের ফসল। হোয়াইট হাউসের নির্দেশের পর ভেনেজুয়েলা ও ইরান সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান কয়েক গুণ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত শনিবারই ভেনেজুয়েলা থেকেড়াতে তাদের অবস্থান শনাক্তকারী প্রযুক্তি বন্ধ করে রাখে এবং সমুদ্রপথে গোপনে পণ্য পরিবহন করে।
মার্কিন ও ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ‘বেলা-১’ জাহাজটিকে গত বছরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, এই জাহাজটির সঙ্গে ইরানের গভীর সংযোগ রয়েছে এবং এটি দীর্ঘকাল ধরে তেহরান ও কার ছেড়ে আসা আরেকটি বড় ট্যাংকার আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সফলভাবে জব্দ করেছিল মার্কিন বাহিনী।
বিশ্লেষকদেরাকাসের গোপন তেল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
সাগরে রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
ট্যাংকারট্র্যাকার ডটকম (TankerTrackers.com) এর তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলার দিকে যাত্রার সময় ‘বেলা-১’ বর্তমানে খালি অবস্থায় রয়েছে। এর আগে এই ট্যাংকারটি ভেনে মতে, এ ধরনের ‘Aggressive’ অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভেনেজুয়েলা ও ইরানের অর্থনৈতিক রসদ বন্ধ করতে চাইছে। বিশেষ করে ‘ডার্ক ফ্লিট’ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়ে বৈশ্বিক তেল বাজারে একাধিপত্য ও সুশাসন নিশ্চিত করাই পেন্টাগনের প্রধান লক্ষ্য।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক প্রভাব
ট্যাংকারজুয়েলা থেকে চীনে তেল পরিবহন করেছে এবং তারও আগে ইরানের তেল বহনের রেকর্ড রয়েছে এর নথিপত্রে। মার্কিনটি শেষ পর্যন্ত জব্দ করা সম্ভব হলে এটি মার্কিন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে এবং এর ভেতরের যাবতীয় তথ্য বা ‘লগবুক’ পরীক্ষা করা হবে। এর ফলে ইরান ও ভেনেজুয়েলার গোপন তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে ক্যারিবীয় সাগরের এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পরিণতির দিকে।