লিওনেল মেসি যেখানে পা রেখেছেন, সেই মাটিই যেন সোনায় পরিণত হয়েছে। এবার সেই জাদুকরী স্পর্শমাখা ঘাস সংগ্রহ করার এক দুর্লভ সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ইন্টার মায়ামির ঘরের মাঠ ‘চেজ স্টেডিয়ামে’র আসল ঘাস এখন স্মারক বা Memorabilia হিসেবে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার প্রথম মেজর লিগ সকার (MLS) শিরোপা জয়ের সাক্ষী এই মাঠের ঘাস ঘিরেই এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা।
স্মৃতিবিজড়িত চেজ স্টেডিয়াম ও মায়ামির নতুন যাত্রা
২০২০ সালে ইন্টার মায়ামির যাত্রা শুরু হয়েছিল এই চেজ স্টেডিয়াম থেকেই। এটি কেবল একটি মাঠ নয়, বরং ক্লাবটির উত্থান এবং বিশ্বসেরা তারকা লিওনেল মেসির মার্কিন ফুটবলে অভিষেকের অমর সাক্ষী। তবে ২০২৬ সালে মায়ামি তাদের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ‘মায়ামি ফ্রিডম পার্ক’-এ স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে। প্রিয় মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আগে ভক্তদের জন্য এই ঐতিহাসিক স্মৃতি ধরে রাখার সুযোগ করে দিতেই ‘আসল ঘাস’ বিক্রির এই অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে Franchise টি।
এক টুকরো ঘাস, পাঁচ ধরনের আভিজাত্য
ইন্টার মায়ামির ঘোষণা অনুযায়ী, মোট পাঁচটি ভিন্ন আঙ্গিক ও মূল্যে এই ঘাস কেনা যাবে। সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে সংগ্রাহক—সবার সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে এই প্যাকেজগুলো।
১. সাশ্রয়ী কি-চেইন: সর্বনিম্ন ৫০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার টাকা) মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে দুটি ভিন্ন নকশার চাবির রিং। এর একটিতে রয়েছে লিমিটেড এডিশন খোদাই করা নকশা এবং অন্যটি মেসির বিখ্যাত ‘১০’ নম্বর জার্সির আদলে তৈরি।
২. গ্রাস মিনি আলট্রা লাক্স বক্স: যারা একটু শৌখিন, তাদের জন্য ২০০ ডলার মূল্যের এই অ্যাক্রিলিক কিউব বক্সে থাকছে আসল ঘাসের টুকরো। এর ভেতরের অংশটি নরম চামড়া বা সুয়েড (Suede) দিয়ে মোড়ানো।
৩. গ্র্যান লাক্স সংস্করণ: ৩৫০ ডলার মূল্যের এই প্রিমিয়াম বক্সে ঘাসের পাশাপাশি থাকছে সোনায় খোদাই করা একটি ধাতব টিকিট, যা এই স্মারকের Market Value বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪. রাজকীয় আলট্রা বক্স: তালিকার সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং অভিজাত পণ্যটি হলো ‘আলট্রা বক্স’। এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯১ হাজার টাকা। আয়নার মতো মসৃণ পিয়ানো ফিনিশ (Piano Finish) এবং বিশেষ টেক্সচার্ড ইন্টেরিয়র সংবলিত এই বক্সটি মূলত বিশেষ সংগ্রাহকদের জন্য তৈরি।
মায়ামির সাফল্যের মহাকাব্য
ইন্টার মায়ামি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "এটি সেই পবিত্র ভূমি যেখানে আমাদের স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২০ সালের প্রথম মৌসুম থেকে শুরু করে লিওনেল মেসির আগমন এবং আমাদের প্রথম এমএলএস কাপ জয়—সবই এই ঘাসের ওপর রচিত হয়েছে।" চলতি মাসের শুরুতেই এই মাঠে এমএলএস কাপ জিতে ক্লাব ইতিহাসে নতুন এক উচ্চতা স্পর্শ করেছেন মেসি।
বর্তমানে এই বিশেষ স্মারকগুলোর জন্য প্রি-অর্ডার (Pre-order) নিচ্ছে ইন্টার মায়ামি। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির বৈশ্বিক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ক্লাবটির ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর এটি একটি চমৎকার বাণিজ্যিক কৌশল। ফুটবল ভক্তদের কাছে এই এক টুকরো ঘাস কেবল উদ্ভিদ নয়, বরং প্রিয় তারকার ঘাম আর জয়ের আবেগের এক জীবন্ত দলিল।