• জীবনযাপন
  • যেসব ফ্রোজেন খাবার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে: বাড়াচ্ছে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

যেসব ফ্রোজেন খাবার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে: বাড়াচ্ছে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

সময় বাঁচাতে অনেকেই ফ্রোজেন খাবারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কিছু প্রক্রিয়াজাত ফ্রোজেন খাবার নিয়মিত খেলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
যেসব ফ্রোজেন খাবার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে: বাড়াচ্ছে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

কর্মব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই এখন ফ্রোজেন বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। রান্নার ঝামেলা কম ও সংরক্ষণ সহজ হওয়ায় ফ্রিজভরা থাকে নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ফ্রোজেন খাবার একরকম নিরাপদ নয়। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত কিছু ফ্রোজেন খাবার নিয়মিত খেলে ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি হতে পারে এবং হৃদরোগসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ফ্রোজেন খাবারগুলো

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ফ্রোজেন খাবারে সাধারণত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো নিয়মিত গ্রহণে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নিচে কিছু ক্ষতিকর ফ্রোজেন খাবারের তালিকা দেওয়া হলো:

ফ্রোজেন মাংস, বেকন ও সসেজ এই ধরনের ফ্রোজেন মাংসে সাধারণত স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ক্ষতিকর চর্বি ও প্রিজারভেটিভের পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসবের উপস্থিতি হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

ফ্রোজেন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও চিকেন নাগেটস ফ্রোজেন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন নাগেটসসহ বিভিন্ন স্ন্যাকস আগে থেকেই ভাজা থাকে, যা এদেরকে অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। এতে লবণের মাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগুণ থাকে খুব কম। এসব খাবার অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি হয়।

ফ্রোজেন পিৎজা ও ফাস্ট ফুড ফ্রোজেন পিৎজায় সাধারণত পরিশোধিত ময়দার বেস, প্রক্রিয়াজাত পনির ও চর্বিযুক্ত টপিং ব্যবহার করা হয়। এসব ফাস্ট ফুডে ক্যালোরি, লবণ এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকার কারণে নিয়মিত খেলে ওজন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন বিপাকীয় বা মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ফ্রোজেন খাবার অনেক ফ্রোজেন খাবারে স্বাদ বাড়ানো ও সংরক্ষণের মেয়াদ দীর্ঘ করার জন্য অতিরিক্ত সোডিয়াম, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। ঘন ঘন এই ধরনের খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের অবনতি এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ফ্রোজেন মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার আইসক্রিম ও অন্যান্য ফ্রোজেন মিষ্টিজাতীয় খাবারে পরিশোধিত চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ফলে ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি থাকে।

ফ্রোজেন খাবারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কেন ক্ষতিকর?

পরিমিত পরিমাণে ফ্রোজেন খাবার খাওয়া ক্ষতিকর না হলেও, যদি এগুলো নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্যকর ঘরে রান্না করা খাবারের বিকল্প হয়ে ওঠে, তবে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং হজমজনিত সমস্যার আশঙ্কা বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রোজেন খাবার কেনার সময় পণ্যের লেবেল ভালোভাবে পড়া জরুরি। সবসময় কম লবণ ও কম চর্বিযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সম্ভব হলে দৈনন্দিন খাদ্যে ঘরে রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Tags: nutrition lifestyle health risk diabetes bengali news processed food heart disease frozen food