গত ২১ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানীসহ দেশজুড়ে অনুভূত হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্প সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা এবং এর উৎস নিয়ে আলোচনার মাঝেই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—যদি কোনো বড় ধরনের বিপর্যয়ে কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন, তবে বাঁচার উপায় কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের 'Natural Disaster' বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাৎক্ষণিক আতঙ্ক মানুষের বিচারবুদ্ধি লোপ করে দেয়, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তাই মনোবল শক্ত রেখে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই এখন সময়ের দাবি।
মৃত্যুকূপে যখন বন্দি জীবন: জীবন রক্ষার ৫টি সোনালি নিয়ম
ভূমিকম্পের ফলে কোনো ভবনের নিচে আটকা পড়া বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এমন পরিস্থিতিতে আপনার প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:
১. মনোবল হারাবেন না ও সংকেত দিন: ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়লে প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। আতঙ্কিত হয়ে অক্সিজেন অপচয় করবেন না। আপনার উপস্থিতি জানান দিতে চিৎকার করার চেয়ে হাতের কাছে থাকা কোনো শক্ত বস্তু দিয়ে পাইপ বা দেয়ালে টোকা দিন। এতে 'Emergency Rescue Team' বা উদ্ধারকারীরা সহজেই আপনার অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে। সম্ভব হলে সাথে থাকা বাঁশি ব্যবহার করুন।
২. শক্তির অপচয় রোধ ও শ্বাস নিয়ন্ত্রণ: অযথা চিৎকার করলে আপনার ফুসফুসে ধুলোবালি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে এবং দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে। উদ্ধারকর্মীদের খুব কাছাকাছি শব্দ না পাওয়া পর্যন্ত চিৎকার করবেন না। মনে রাখবেন, শক্তির সঠিক ব্যবহারই আপনার ‘Survival’ নিশ্চিত করবে।
৩. অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া পরিহার: ভেঙে পড়া কাঠামোর নিচে শরীর যতটা সম্ভব স্থির রাখুন। বেশি নড়াচড়া করলে আলগা হয়ে থাকা ইঁট বা কংক্রিট আপনার ওপর ধসে পড়ে বড় ধরনের 'Physical Injury' ঘটাতে পারে। শরীরকে গুটিয়ে ছোট হয়ে থাকার চেষ্টা করুন।
৪. শ্বাসতন্ত্র সুরক্ষা বা মাস্কিং: ধুলোবালি ও ক্ষতিকর কণা যাতে আপনার 'Respiratory System' বা ফুসফুসে প্রবেশ না করে, সেজন্য কাপড়, রুমাল বা স্কার্ফ দিয়ে মুখ ও নাক ভালোভাবে ঢেকে রাখুন। ধুলোবালিতে দম বন্ধ হয়ে আসা ভূমিকম্প পরবর্তী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
বিপর্যয় পরবর্তী সতর্কতা: ঘরে ফেরার আগে যা নিশ্চিত করবেন
কম্পন থেমে যাওয়ার মানেই বিপদ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অনেক সময় শক্তিশালী 'Aftershock' বা পরবর্তী কম্পন বড় বিপদ ডেকে আনে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা: ঘরে ফেরার পর প্রথমেই কোনো 'Gas Leak' আছে কি না নিশ্চিত হোন। গ্যাসের গন্ধ পেলে ভুলেও ম্যাচের কাঠি বা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করবেন না। এতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হতে পারে।
আলোর সঠিক উৎস: অন্ধকারের মধ্যে মোমবাতি ব্যবহার না করে সবসময় 'Flashlight' বা টর্চ ব্যবহার করুন। আগুন লাগার ঝুঁকি এড়াতে এটি সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম।
কাঠামোগত ঝুঁকি: যদি দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখেন বা ভবনের 'Structural Integrity' নিয়ে সন্দেহ থাকে, তবে সেখানে অবস্থান করবেন না।
যোগাযোগ রক্ষা: আপনি যে নিরাপদে আছেন তা দ্রুত প্রিয়জনকে জানান। তবে মোবাইল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ কমাতে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ কল এড়িয়ে চলুন।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: প্রস্তুতির বিকল্প নেই
বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় নগর পরিকল্পনাবিদ ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বারবার ‘Earthquake Preparedness’ বা ভূমিকম্প প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছেন। একটি ছোট্ট 'Survival Kit' (যেখানে পানি, শুকনো খাবার, টর্চ ও বাঁশি থাকবে) সবসময় হাতের কাছে রাখা জীবন বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে। মনে রাখবেন, সঠিক জ্ঞানই হতে পারে মহাবিপর্যয়ের সময় আপনার সেরা প্রতিরক্ষা।