বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে গভীর রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত পুলিশকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security System) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে চারমাথা এলাকার বারপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং লুণ্ঠিত একটি শটগান উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ডাকাতির পরিকল্পনা: টপাগো গুদাম টার্গেট
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটি বারপুর ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থিত 'টপাগো' (Topago) নামের একটি কোম্পানির গুদামে ডাকাতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ডাকাতির কার্যক্রম শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে বগুড়া সদর থানার একটি নিয়মিত টহল দল (Patrol Team) টহল দিতে দিতে ওই এলাকায় পৌঁছায়।
টহল দলের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই ডাকাতরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে, পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, পালটা জবাব
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধাওয়ার একপর্যায়ে ডাকাতরা পুলিশবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। এটি ছিল পুলিশের ওপর সরাসরি হামলা, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা (Law and Order) পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত দলটি পালিয়ে সবুজ নার্সারির সামনে পৌঁছালে তারা আবারও পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও তখন পাল্টা অ্যাকশনে যায়। পুলিশও তখন নিজেদের কাছে থাকা শটগান (Shotgun) থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
পাল্টা ফায়ারিং ও শটগান উদ্ধার
পুলিশের এই তীব্র পাল্টা আক্রমণের মুখে ডাকাতরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ধাওয়ার একপর্যায়ে ডাকাতরা তাদের ব্যবহৃত ট্রাকটি এবং কোম্পানি থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি শটগান ও কয়েক রাউন্ড গুলি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় ডাকাত দলের ব্যবহৃত টেকনিক (Technique) ও তাদের দ্রুত পালানোর কৌশল পুলিশের কাছে এক নতুন উদ্বেগের কারণ।
তদন্ত ও অভিযান শুরু
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং একটি শটগান জব্দ (Seized) করেছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ডাকাতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের (Arrest) জন্য ইতোমধ্যে জোরদার তদন্ত (Investigation) এবং অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় ইনটেলিজেন্স (Intelligence) ব্যবহার করে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।