• দেশজুড়ে
  • আত্মহত্যার হুমকি! পুলিশি জুলুম, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে কাফনের কাপড় পরে বরিশালের সাংবাদিকের প্রতিবাদ

আত্মহত্যার হুমকি! পুলিশি জুলুম, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে কাফনের কাপড় পরে বরিশালের সাংবাদিকের প্রতিবাদ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
আত্মহত্যার হুমকি! পুলিশি জুলুম, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে কাফনের কাপড় পরে বরিশালের সাংবাদিকের প্রতিবাদ

বিষের বোতল হাতে রাজপথে এশিয়ান টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ফিরোজ মোস্তফা। অবশেষে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসির আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার।

বরিশালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় এক সাংবাদিক শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং হাতে বিষের বোতল নিয়ে এক অভিনব অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তার অভিযোগ, কোতোয়ালি মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্য তাকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে অনবরত জুলুম, নির্যাতন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার করে চলেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুবিচারের দাবিতে তিনি প্রকাশ্যে এই চরম পদক্ষেপ নেন।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনের সড়কে এশিয়ান টেলিভিশনের বরিশাল ব্যুরো প্রধান ফিরোজ মোস্তফা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন-উল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি তার কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

ছয় মাস ধরে জুলুমের শিকার

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা তার অভিযোগে জানান, গত ছয় মাস ধরে কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইদুল ইসলাম সাঈদ এবং আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে সদ্য ক্লোজড কনস্টেবল নাভিদ আনজুমের হাতে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে নিপীড়িত হচ্ছেন।

তার গুরুতর অভিযোগ, কনস্টেবল নাভিদ আনজুম প্রথমে কৌশলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিছু ছবি নিয়ে নেয় এবং এরপর তা ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে। এটি এক ধরনের সাইবার বুলিং (Cyber Bullying) এবং প্রাইভেসির (Privacy) চরম লঙ্ঘন।

হামলা ও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ

সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা আরও অভিযোগ করেন, ব্ল্যাকমেইল কেবল এখানেই থেমে থাকেনি। সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর এএসআই সাইদুল ইসলাম ও কনস্টেবল নাভিদ আনজুম সরাসরি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তার অফিস ভাঙচুর করে। এই হামলার সময় তারা অফিস থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই ঘটনা তার পেশাগত নিরাপত্তা (Professional Security) এবং ব্যক্তিগত জীবনকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার ওপর হামলাকারী ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ে জড়িত পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ওসি যা বললেন

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন-উল ইসলাম জানান, এএসআই সাইদুল ইসলাম ও কনস্টেবল নাভিদ আনজুমের সঙ্গে সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফার খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কারণে আগে থেকেই একটি ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। পরবর্তী সময়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেই সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেয়।

ওসি আরও বলেন, সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা দাবি করেছেন, তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু মালামাল ওই দুই পুলিশ সদস্যের কাছে রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সেই মালামাল দ্রুত ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে এবং একইসাথে পুরো বিষয়টি ইনভেস্টিগেট (Investigate) করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসির এমন আশ্বাসের পরই সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা তার অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

Tags: barisal journalist police harassment black mail protest against police firoz mostofa asian television police corruption press safety