দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তাকে এবং তার পরিবারকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মাতৃভূমিতে নামার পর এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবনের ইতি ঘটিয়ে তার এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সিলেটে অবতরণ ও সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিজি-২০২ ফ্লাইটে করে তারেক রহমান সপরিবারে দেশের উদ্দেশে রওনা হন। বোয়িং ৭৮৭-৯০০ ড্রিমলাইনার (Dreamliner) উড়োজাহাজটি সিলেটে অবতরণের পর সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার একটি গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ড (Ground Turnaround) সম্পন্ন করে। নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করবে। ভিভিআইপি এই যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিমানের ভেতরে ও সফরসঙ্গীরা
বিমান সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ এই যাত্রায় তারেক রহমানের জন্য উড়োজাহাজের ‘A1’ সিটটি বরাদ্দ ছিল। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এছাড়া তার ব্যক্তিগত সচিব আবদুর রহমান সানি, দলের প্রেস উইংয়ের সালেহ শিবলী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কামাল উদ্দিন, সৈয়দ মইনউদ্দিন আহমেদ এবং তাবাসসুম ফারহানা এই ঐতিহাসিক যাত্রায় তার সঙ্গে রয়েছেন।
ঢাকার কর্মসূচি: সংবর্ধনা ও এভারকেয়ার পরিদর্শন
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর পূর্বাচলের ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। কুড়িল মোড় সংলগ্ন এলাকায় ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের একটি সুবিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ভিআইপি লাউঞ্জে (VIP Lounge) স্বাগত জানাবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সংবর্ধনাস্থলে যাবেন এবং সেখানে দেশবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। সেখান থেকে গুলশান-২ নম্বরের বাসভবনে তার যাওয়ার কথা রয়েছে।
১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পটভূমি
২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রেফতার হয়েছিলেন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান তিনি। এরপর দেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে আইনি জটিলতা এবং একের পর এক রাজনৈতিক মামলার কারণে তার ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর আজ তিনি প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এলেন। তার এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।