অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (IGP) খোদা বকশ চৌধুরী তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর এই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন ও তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে খোদা বকশ চৌধুরী যে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তা থেকে তাঁর অব্যাহতি কার্যকর হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় (State Minister Rank) গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা (Executive Power) অনুশীলন করে আসছিলেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
বিশেষ সহকারী নিয়োগের পটভূমি ও বর্তমান চিত্র
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিন জন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই তিন জনের কাঁধে স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের সহযোগিতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রশাসনিক ও নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল।
খোদা বকশ চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অধ্যাপক সায়েদুর রহমানকে স্বাস্থ্য এবং অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলামকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে মেয়াদের মাঝপথেই অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম পদত্যাগ করেছিলেন। এবার খোদা বকশ চৌধুরীর বিদায়ে তিন বিশেষ সহকারীর মধ্যে কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক সায়েদুর রহমান স্বপদে বহাল রইলেন।
বিতর্ক ও পদত্যাগের নেপথ্য কারণ
খোদা বকশ চৌধুরীর এই পদত্যাগের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনরোষের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে খোদা বকশ চৌধুরীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপনে পদত্যাগের কোনো নির্দিষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনদাবির মুখেই এই ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল দপ্তরের বিশেষ সহকারীর পদত্যাগ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ বাহিনীর সংস্কার প্রক্রিয়ায় (Police Reform) তাঁর ভূমিকা নিয়ে যেমন আলোচনা ছিল, তেমনি বিতর্কও পিছু ছাড়েনি। খোদা বকশ চৌধুরীর এই প্রস্থান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো নতুন রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।