• আন্তর্জাতিক
  • ‘গাজার জন্য কাঁদেন, বাংলাদেশে হিন্দু নিধনে চুপ কেন?’— বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ যোগি আদিত্যনাথের

‘গাজার জন্য কাঁদেন, বাংলাদেশে হিন্দু নিধনে চুপ কেন?’— বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ যোগি আদিত্যনাথের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘গাজার জন্য কাঁদেন, বাংলাদেশে হিন্দু নিধনে চুপ কেন?’— বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ যোগি আদিত্যনাথের

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তুলে ‘তোষণের রাজনীতি’ ও ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী; ঢাকা’কেও দিলেন কড়া বার্তা।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা অধিবেশনে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে বিরোধীদের সরব হওয়াকে ‘সিলেক্টিভ আউটরেজ’ (Selective Outrage) বা বেছে বেছে ক্ষোভ প্রকাশ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—প্রতিবেশী দেশে যখন সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হয়, তখন কেন তারা নীরব থাকেন? বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন।

গাজা বনাম বাংলাদেশ: দ্বিচারিতার অভিযোগ

যোগি আদিত্যনাথ তার বক্তব্যে সরাসরি বিরোধীদের ‘Appeasement Politics’ বা তোষণের রাজনীতির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “গাজা উপত্যকায় যা কিছু ঘটে, তার জন্য আপনারা চোখের জল ফেলেন, মোমবাতি মিছিল (Candle March) করেন। কিন্তু বাংলাদেশে যখন একজন দলিত যুবককে হত্যা করা হয় বা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নৃশংসতা চালানো হয়, তখন আপনাদের মুখ থেকে একটি শব্দও বের হয় না। কারণ নিহত ব্যক্তিরা হিন্দু।”

তিনি আরও দাবি করেন যে, বিরোধীদের কাছে মানবাধিকারের সংজ্ঞা ধর্মভেদে বদলে যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে অ-মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর চলা নিপীড়ন নিয়ে বিরোধীদের এই নীরবতাকে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থপরতা বলে অভিহিত করেন।

বাংলাদেশ সরকারকে সতর্কতা ও নিন্দা প্রস্তাব

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কেবল বিরোধীদের আক্রমণ করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি বাংলাদেশ সরকারকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক হতে বলি।” এ সময় তিনি বিধানসভা থেকে একটি সর্বসম্মত নিন্দা প্রস্তাব (Condemnation Motion) আনার আহ্বান জানান এবং বলেন যে বিরোধী নেতার পক্ষ থেকেই এই প্রস্তাব আসা উচিত ছিল। তার মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ভারতের একতাবদ্ধ অবস্থান থাকা জরুরি।

অনুপ্রবেশ ও ‘ভোট ব্যাংক’ রাজনীতি

অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যু টেনে যোগি আদিত্যনাথ বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে ‘Voter Bank’ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়। তার ভাষায়, “আপনারা অনেককেই ভোটার বানিয়েছেন, এমনকি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভোটার আইডি কার্ডও (Voter ID Card) করে দিয়েছেন। আমরা যখন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করি বা রোহিঙ্গাদের বের করে দিই, তখন আপনারা তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবার নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরছে। যোগি আদিত্যনাথের এই মন্তব্য মূলত উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণকে আরও সুসংহত করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, তারা সব ধরনের সহিংসতার বিরোধী, তবে মুখ্যমন্ত্রী ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটিয়ে মূল সমস্যাগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে চাইছেন। তবে বিধানসভায় যোগি আদিত্যনাথের এই আক্রমণাত্মক ভাষণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Tags: bangladesh news yogi adityanath illegal immigration gaza conflict hindu persecution up assembly appeasement politics rohingya issue