ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক— সামগ্রিক পরিসরে যাবতীয় সমস্যার সমাধানে ইসলামের রয়েছে সমৃদ্ধ আয়োজন। মানুষের পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও সুস্থতা রক্ষায় ইসলাম বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে।
স্বভাবজাত পরিচ্ছন্নতা ও হাদিসের নির্দেশনা
ইসলামে পাঁচটি জিনিসকে মানুষের স্বভাবজাত বিষয় বা ‘ফিতরাত’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যেমন— খতনা করা, ক্ষৌরকার্য করা (নাভির নিচের লোম পরিষ্কার), বগলের চুল উপড়ানো, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা। (বোখারি : ৫৮৮৯)
হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) নখ ও গোঁফ কাটা এবং বগলের চুল উপড়ানো ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কারের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে, তা যেন চল্লিশ রাতের অধিক (অপরিষ্কার অবস্থায়) না রাখা হয়।’ (মুসলিম : ২৫৮)
৪০ দিনের সময়সীমা ও বিধান
রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর-১২ এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, নাভির নিচের পশম প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার করা মোস্তাহাব। আর তা জুমার দিনে করা অতি উত্তম। যদি সপ্তাহে সম্ভব না হয়, তবে প্রতি ১৫ দিনে একবার পরিষ্কার করা যেতে পারে।
তবে এর চেয়েও বিলম্ব হলে সর্বোচ্চ ৪০ দিন যেন কোনোভাবেই অতিক্রম না হয়। কেননা এর চেয়ে বেশি বিলম্ব করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। হাদিসের ভাষ্যমতে, ৪০ দিনের বেশি লোম অপরিষ্কার রাখা ঠিক নয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে এই মেয়াদ অতিক্রম করলে গোনাহ হবে।
নামাজ কবুলের বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী নিশ্চিত করেছেন, সমাজে প্রচলিত এই ধারণাটি সঠিক নয় যে— ৪০ দিনের বেশি নাভির নিচের লোম পরিষ্কার না করলে ব্যক্তির নামাজ কবুল হবে না। তিনি জানান, হাদিসের কোথাও এমন কথা বলা হয়নি। এর থেকে বোঝা যায় যে, অপরিচ্ছন্নতা গোনাহের কারণ হলেও, শুধু এই কারণে নামাজ কবুল হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত নয়।