ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুর্শিদা জামান বেল্টুর সমর্থকরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ ও সমাবেশ
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকরা কাফনের কাপড় পরিধান করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল দুটি শহরের মেন বাসস্ট্যান্ডে এসে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এই সমাবেশে স্থানীয় দুই নেতা রাশেদ খাঁনকে বহিরাগত হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তাঁরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জোটের মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁন এই সংসদীয় আসনের বাসিন্দা নন। এমনকি গত ৪/৫ দিন আগেও তিনি ঝিনাইদহ-২ আসনে গণসংযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, এখানে টাকার বিনিময়ে বহিরাগত একজনকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা এমন ব্যক্তিকে কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস রহমান মিঠু বলেন, “বিগত ১৭ বছরে আমরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজন নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে বহিরাগত একজনকে চাপিয়ে দেওয়া হলো।”।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতিক্রিয়া
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, “ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে আমরা তিনজন মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু টাকার বিনিময়ে বিএনপির কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে বহিরাগত ব্যক্তিকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দিনে আমার নেতাকর্মীরা যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটা মাথা পেতে নেব।”।
আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মুর্শিদা জামান বেল্টু, যার স্বামী এখানকার ৪ বারের সংসদ সদস্য ছিলেন, তিনি বলেন, “আমরা কালীগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত। আমরা কোনো বহিরাগত ব্যক্তিকে চাই না। দ্রুতই বিএনপির কাউকে মনোনয়ন দিতে হবে। কালীগঞ্জের মাটি ধানের শীষের ঘাঁটি। চক্রান্ত করে এই ধানের শীষকে হারিয়ে ফেলা হচ্ছে।”।
বিক্ষোভকারীরা আগামী ২৮ তারিখের মধ্যে বিএনপির কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।