ভূখণ্ড বিনিময় ও রাশিয়ার শর্ত
রুশ সংবাদপত্র কমেরসান্ত-এর ক্রেমলিন সংবাদদাতা আন্দ্রেই কোলেসনিকভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন যে রাশিয়া আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ সম্মেলনে দেওয়া ছাড়গুলো মেনে নিতে প্রস্তুত। এর মূল অর্থ হলো, দনবাস চিরকাল রাশিয়ার অংশ থাকবে—এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে কোলেসনিকভ উল্লেখ করেছেন, দনবাসের বাইরে রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য অঞ্চলের কিছু অংশ অদলবদল বা ইউক্রেনের হাতে হস্তান্তরের সম্ভাবনাকে পুতিন একেবারে উড়িয়ে দেননি।
ইউক্রেনের শান্তি আলোচনার অগ্রগতি ও আপত্তি
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি জানান, গত সপ্তাহে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পথে অনেকটাই এগিয়েছে। তবে জেলেনস্কি পরিষ্কার করেছেন যে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা দনবাসের অবশিষ্ট অংশ রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো ঐকমত্য হয়নি।
জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ। বর্তমানে রুশ সেনাদের দখলে থাকা ইউরোপের বৃহত্তম এই পারমাণবিক স্থাপনাটির মালিকানা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। কমেরসান্ত জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন উল্লেখ করেছেন যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়াও, এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ ইউক্রেনকে সরবরাহ করার এবং এর কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রিপ্টো মাইনিং বা ডিজিটাল মুদ্রা উৎপাদনে আগ্রহ দেখানোর বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ।
শান্তিচুক্তির জন্য পুতিনের পূর্বশর্ত
রাশিয়ার হিসাব অনুযায়ী, তারা বর্তমানে ২০১৪ সালে সংযুক্ত করা ক্রিমিয়া ছাড়াও দনবাসের ৯০ শতাংশ এবং জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। উল্লেখ্য, পুতিন এর আগে শান্তিচুক্তির জন্য প্রধান শর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে দনবাস, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া থেকে পুরোপুরি সেনা সরিয়ে নিতে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে বলেছিলেন।