মামলার বিবরণ ও নিহত ব্যক্তির পরিচয় গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে নিহত অমৃত মণ্ডলের ভাই অমিয় মণ্ডল বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি করেন। নিহত অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের মৃত অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে।
ঘটনার বিস্তারিত পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বুধবার রাতে সম্রাট তাঁর সহযোগী সেলিম হোসেনকে নিয়ে হোসেনডাঙ্গা গ্রামের শহীদ শেখের বাড়িতে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে যান। শহীদ শেখ চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় জনতা এগিয়ে আসে এবং সম্রাট ও তাঁর সহযোগীদের গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্রাটকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করে পুলিশ।
অস্ত্র ও চাঁদাবাজির পৃথক মামলা পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, চাঁদাবাজি, অস্ত্র উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকৃত আলামত গণপিটুনির পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করে। এটি সম্রাটের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রমাণ বহন করে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়ার অপচেষ্টা এবং সরকারের বিবৃতি সম্রাটের নিহত হওয়ার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ভারতের কিছু গণমাধ্যম এটিকে ‘আরেক হিন্দু ব্যক্তি’কে হত্যা বলে খবর প্রকাশ করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার আবহ দেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশের তথ্যমতে ঘটনাটি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক নয়, বরং এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত সহিংস ঘটনার ফল। সরকার আরও জানায়, সম্রাটের নামে ২০২৩ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে সরকার আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা যে কোনো ধরনের সহিংসতাকে কঠোরভাবে নিন্দা করে এবং কোনোভাবেই সমর্থন করে না।