• দেশজুড়ে
  • সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: বাঁকখালী নদীতে ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’-এ আতঙ্ক

সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: বাঁকখালী নদীতে ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’-এ আতঙ্ক

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: বাঁকখালী নদীতে ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’-এ আতঙ্ক

পর্যটন মরসুমের মাঝপথে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাটে নোঙর করা জাহাজে আগুন, প্রাণহানি এড়ালেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

কক্সবাজারের পর্যটন খাতে সাতসকালে এক বড়সড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া এলাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BIWTA) ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। শীতকালীন পর্যটন মরসুমের (Peak Season) এই সময়ে এমন দুর্ঘটনায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ভয়াল আগুনের লেলিহান শিখা ও উদ্ধার তৎপরতা

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে পর্যটক নেওয়ার প্রস্তুতি বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজের সময় হঠাৎ করেই জাহাজের এক অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা জাহাজের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এবং জাহাজ কর্মীরা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। খবর দেওয়া হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং কোস্টগার্ডকে।

প্রাণহানি এড়িয়ে বড় স্বস্তি

দুর্ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন জাহাজে কোনো পর্যটক ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রাথমিক ধোঁয়াশা থাকলেও পরবর্তীতে জানা গেছে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজটি ঘাটে নোঙর করা থাকায় এবং পূর্ণ মাত্রায় যাত্রী পরিবহন শুরু না করায় একটি বড় ধরনের ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জাহাজের অভ্যন্তরীণ ডেক এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ আগুনের গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের শীর্ষ সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (SCOOAB)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাঁকখালী নদীতে নোঙর করা ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ জাহাজে আগুন লাগার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও পর্যটন শিল্পে প্রভাব

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই জাহাজগুলো। পর্যটন মৌসুমে কয়েক হাজার পর্যটক প্রতিদিন টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে জাহাজে চড়ে প্রবাল দ্বীপে যাতায়াত করেন। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জাহাজগুলোর ‘Safety Standard’ এবং ‘Fire Safety’ প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে চলাচলের সময় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যটন শিল্পে আস্থার সংকট দূর করতে দ্রুত এই ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে ‘Emergency Response’ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।

Tags: coxs bazar fire incident st martin ship fire atlantic cruise tourism safety maritime news biwta sea cruise bangladesh tourism