• জাতীয়
  • অবৈধ অস্ত্র ও পেশিশক্তি নিয়ন্ত্রণই উৎসবমুখর নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি: নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন তুলি

অবৈধ অস্ত্র ও পেশিশক্তি নিয়ন্ত্রণই উৎসবমুখর নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি: নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন তুলি

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
অবৈধ অস্ত্র ও পেশিশক্তি নিয়ন্ত্রণই উৎসবমুখর নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি: নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন তুলি

খুলনায় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলেন সংস্কার কমিশনের সদস্য; জনআস্থা ফেরাতে জোর দিলেন কার্যকর ‘Field Management’-এর ওপর।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য কেবল সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, বরং মাঠপর্যায়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পেশিশক্তির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং বিশিষ্ট নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন তুলি। তাঁর মতে, এই ‘Security Challenges’ মোকাবিলা করা না গেলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করা দুরূহ হয়ে পড়বে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের পেশাদারিত্বে গুরুত্ব

ভয়েস নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেসমিন তুলি বলেন, “বিগত কয়েক দশকে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর অসন্তোষ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এটি আমাদের 'Democratic System' বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় বিপদ।” তিনি আরও জানান, একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে দক্ষ এবং শক্তিশালী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যেই একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন 'Training Manual' প্রণয়ন করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও ‘ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এদিন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ’ (Impact Initiative) প্রণীত বিশেষ পর্যবেক্ষণ ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। জেসমিন তুলি আশা প্রকাশ করেন, এই ম্যানুয়ালটি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে, যা তাদের কর্মদক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ

খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই মেগা কর্মশালায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার প্রায় তিন শতাধিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই সেশনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিক নীতিমালা, নির্বাচনী আইন (Election Law), এবং ভোটকেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহের আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে 'Hands-on Training' বা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ভোটের ময়দানে ‘পেশিশক্তি’ বনাম ‘জনগণের রায়’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, যদি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো সৎ ও নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ করে, তবে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে যেখানে ‘Muscle Power’ বা পেশিশক্তির প্রভাব বেশি থাকে, সেখানে পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি ভোটারদের মনোবল বাড়াতে সহায়ক হয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও আইনি সংস্কার

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে জেসমিন তুলি ইঙ্গিত দেন যে, কমিশন বর্তমান নির্বাচনি আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার মাধ্যমে আরও যুগোপযোগী করার কাজ করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দেশপ্রেমের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে আগামী নির্বাচনে কোনো দল বা ব্যক্তি অবৈধ সুযোগ নিতে না পারে।

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনবল তৈরিকেই এখন মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আয়োজক সংস্থা ভয়েস নেটওয়ার্কের কর্মকর্তারা।

Tags: illegal arms election observer parliamentary election election reform jasmine tuli khulna news democratic system muscle power training manual impact initiative