• আন্তর্জাতিক
  • চিংড়িতে জেলি পুশ করে আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ: মৎস্য উপদেষ্টা

চিংড়িতে জেলি পুশ করে আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ: মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের মতে, চিংড়িতে জেলি পুশ করার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। খুলনা শ্রিম্প টাওয়ারে এক মতবিনিময় সভায় তিনি ব্যবসায়ে সততা ও মনিটরিং বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
চিংড়িতে জেলি পুশ করে আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ: মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, চিংড়িতে জেলি (Jelly) পুশ করার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ীদেরকে কেবল নিজের লাভ নয়, দেশ সেবার মনোভাব নিয়ে ব্যবসা করার আহ্বান জানান। ক্ষতিকর কিছু খাদ্যে থাকলে মানুষের ক্ষতি হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে মনিটরিং বাড়াবে।

সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ব্যবসা শুধু নিজের লাভের জন্য নয়, দেশ সেবার জন্যও করতে হবে। চিংড়ি খাত কেবল একটি ব্যবসা নয়, এটি অনেকের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন আইনে এই খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চপর্যায়ে সৎ থাকার পাশাপাশি ব্যবসার পুরো প্রক্রিয়াতে সততা বজায় রাখতে হবে। চিংড়ি একটি খাদ্য, এটিকে ঘরে সাজিয়ে রাখার জিনিস মনে না করে এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, এতে ক্ষতিকর কিছু থাকলে মানুষের স্বাস্থ্যহানি হতে পারে। জেলি পুশ করার ফলে আমরা আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছি, তাই সরকার এ ব্যাপারে মনিটরিং বৃদ্ধি করবে।

খুলনায় মতবিনিময় সভা

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে খুলনার শ্রিম্প টাওয়ারে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) আয়োজিত ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য সেক্টরের উন্নয়ন’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য উপদেষ্টা তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চিংড়ি ও ইলিশের দেশ—দুটিই আমাদের পরিচয় এবং জিআই পণ্য। চিংড়ির গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। হ্যাচারির সংখ্যা বাড়াতে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে এবং ফিস ফিড (Fish Feed) আমদানি না করে দেশেই এর উৎপাদন বাড়াতে হবে।

কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির গুরুত্ব

সন্ধ্যায় বয়রায় মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ফরিদা আখতার বলেন, কোয়ালিটি ল্যাবরেটরির সততা ও নিরপেক্ষতার ওপরই সরকারের ভাবমূর্তি এবং দেশের রপ্তানি বাজার নির্ভরশীল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ল্যাবরেটরির কাজে সামান্য ত্রুটিও দেশের রপ্তানি বাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা তার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। তাই মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততা বজায় রাখার বিকল্প নেই।

মতবিনিময় সভায় বিএফএফইএ’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট শেখ কামরুল আলমের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, বিএফএফইএ’র প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী ও সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মো. তারিকুল ইসলাম জহির। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএফইএ’র পরামর্শক সৈয়দ ইসতিয়াক। এর আগে উপদেষ্টা রুপসা জাবুসা টোটাল ফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ঘাগড়ামারী মৎস্য ঘের পরিদর্শন ও চিংড়ি চাষিদের সাথে মতবিনিময় করেন।

Tags: খুলনা prawn jelly push shrimp export fisheries advisor farida akter seafood industry