জমিসংক্রান্ত বিরোধে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের খয়েরবাগান সংলগ্ন চরতিস্তা পাড়া এলাকায় শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তিস্তা পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা. আছমা আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার মো. ফরিদুল ইসলাম ও মো. ইউসুফ আলী গংদের প্রায় ১ একর ১৭ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের মীমাংসা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ ও প্রাণনাশের হুমকি শুক্রবার দিবাগত রাতে ফরিদুল ইসলাম ও ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে প্রায় ১৫–২০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আছমা আক্তারের ভোগদখলীয় প্রায় ৫০ শতক জমিতে প্রবেশ করে। তারা পরিকল্পিতভাবে প্রায় তিন হাজার ফলনশীল চায়ের গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলে। এ সময় আছমা আক্তার ও তার স্বামী বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে ভুক্তভোগীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী নারীর আক্ষেপ ভুক্তভোগী আছমা আক্তার জানান, তাঁরা ক্রয় সূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। ২০১৮ সালে তেঁতুলিয়া থেকে চায়ের চারা এনে দুই বিঘা জমিতে বাগান করেন তিনি। একজন নারী হয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে এই বাগান গড়ে তুলেছিলেন। এই বাগান থেকেই তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চলত। কিন্তু হামলাকারীরা এসে সব চা গাছ উপড়ে দিয়ে তাঁকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
ক্ষুদ্র চা বাগান মালিক সমিতির নিন্দা ও দাবি দেবীগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র চা বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক আবুল বাশার বসুনিয়া এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মোশাররফ হোসেন ও আছমা দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে তিলে তিলে এ চা বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে সব চা গাছ উপড়ে দিয়ে পরিবারটিকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আইনগত পদক্ষেপ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগী মোছা. আছমা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। দেবীগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন এবং মামলার দায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।